‘চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে আগামী ১০০ বছরের রূপরেখা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে’

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে আগামী ১০০ বছরের রূপরেখা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। শুক্রবার নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আয়করের টাকা ব্যবহার করে উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা মুখ্য সমন্বয়ক মহোদয়কে নিয়ে, নৌপরিবহন সচিব মহোদয়কে নিয়ে চট্টগ্রামের যে সম্ভাবনাময় এলাকা, বিভিন্ন এলাকা দেখছি, তার মধ্যে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর একটি। এটাতে আমাদের মুখ্য সমন্বয়ক মহোদয় আগামী ১০০ বছরে কী উন্নয়ন হবে, তার একটি রূপরেখা নিয়ে চিন্তা করছেন।

নজিবুর রহমান বলেন, আমরা দেখেছি একটা পরিবার ৫৮ বছর ধরে কর দিচ্ছে। এছাড়া আরও যারা ২০-৩০-৪০ বছর ধরে কর দিচ্ছেন। তাদের ‘কর বাহাদুর’ হিসেবে সম্মানিত করছে সরকার। কারণ এ করের ওপর দেশের উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায়যোগ্য ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৭ শতাংশে আনার যে দাবি জানানো হয়েছে তা নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। গত সংসদ অধিবেশনে এ নিয়ে বেশ প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে। ভ্যাট আইন দুই বছর পেছানো হয়েছে। এর মধ্যে আমরা ব্যবসায়ীদের নিয়ে কিভাবে ডিজিটাল ভ্যাট, ডিজিটাল আয়কর. ডিজিটাল কাস্টমস আদায় করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করবো।

এসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কর আদায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন মানুষের দোরগোড়ায় সেবা নিয়ে যেতে। যাতে সাধারণ মানুষ খুব সহজে কর দিতে পারেন। এরই অংশ হিসেবে এই মেলা। আমরা ঢাকা থেকে এসেছি চট্টগ্রামের কিছু উন্নয়ন কার্যক্রম দেখার জন্য। বিশেষ করে বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম দেখার জন্য। উন্নয়ন করতে তো টাকা লাগবে। আয়কর থেকেই টাকা পাওয়া যাবে। যতো আয়কর হবে, ততো উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

এর আগে মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ মেলায় বসানো বিভিন্ন বুথ, হেল্প ডেস্ক ঘুরে দেখেন এবং করদাতাদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান, কর অঞ্চল-১ এর কমিশনার ও মেলা কমিটির আহ্বায়ক মাহবুব হোসেন প্রমুখ।

প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ঢাকা-চট্টগ্রামসসহ সারাদেশে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার আয়োজন করেছে। জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম আয়কর বিভাগ (কর অঞ্চল-১,২,৩,৪) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে। মেলায় করদাতাদের সেবা দিতে ৩৮টি আয়কর রিটার্ন জমা বুথ, ২২টি হেলপ ডেস্ক, বৃহৎ করদাতা ইউনিটের ১টি, সঞ্চয় অধিদফতরের ১টি, কাস্টমসের ১টি, মূসকের ১টি, কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চলের ১টি ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ১টি বুথ বসানো হয়েছে।