চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর নতুন ধরন, বাড়ছে ঝুঁকি!


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, চলতি বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮৮ ভাগ রোগীর মধ্যেই পাওয়া গেছে ডেন-২ ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাস। যা গত বছর ছিল ৬৯ ভাগ।

এছাড়াও, গত বছরের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জিনোম সিকুয়েন্স করে দেখা গেছে, ৫০ ভাগ রোগীর মাঝেই বিপজ্জনক কসমোপলিটান ধরন উপস্থিত, যা রোগের তীব্রতা ও জটিলতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছে আইসিডিডিআরবি, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ। গবেষক দলে ছিলেন আইসিডিডিআরবি’র বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এ সাত্তার ও ডা. আবুল ফয়সাল মো. নুরুদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান এবং এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক ডা. মো. আবদুর রব।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, কসমোপলিটান ধরনের কারণেই চট্টগ্রামে রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির হার বেড়ে যাওয়া ও মৃত্যুর হারের ঊর্ধ্বগতি হচ্ছে। গত বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ ছিল পুরুষ এবং ডেঙ্গু রোগীদের প্রতি পাঁচজনে একজন ছিল শিশু।

চট্টগ্রামের ৬০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীর আবাসস্থল পাঁচটি এলাকায়, যেগুলোকে গবেষকরা হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এলাকাগুলো হলো- বাকলিয়া, চকবাজার, কোতয়ালী, ডবলমুরিং এবং বায়েজিদ বোস্তামী। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, পটিয়া, বোয়ালখালী এবং কর্ণফুলী এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে।

গবেষকরা ধারণা করছেন, পর্যটক ও রোহিংগা অনুপ্রবেশকারীদের মাধ্যমে এই বিপজ্জনক ধরনটি দেশে অনুপ্রবেশ করেছে। এই ধরন ডেঙ্গুর তীব্রতা ও মৃত্যুহার বাড়িয়ে দেয়।

গবেষকরা জানান, ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার কারণ অনুসন্ধান ও নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য জিনোম সিকুয়েন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য গুরুত্ব সহকারে সরকার গ্রহণ করলে, পরবর্তী বছরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে অগ্রিম ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।