:: একুশে প্রতিবেদক ::
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকান্ডে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা পাচ্ছে না পুলিশ। ঘটনার পর থেকে রাত-দিন কাজ করেও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কোন ক্লু মিলছে না। কারাগারে বন্দি জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ও সোর্স থেকেও পাওয়া যাচ্ছে না কিছুই। এ অবস্থায় পরিবর্তন করা হয়েছে তদন্তের রাস্তা। ঘটনা পর্যালোচনা করে এবার ‘অন্য পথগুলোতেও’ হাঁটছে পুলিশ। এক্ষেত্রে এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে বড় কোন ‘মাফিয়া চক্রের’ হাত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ঘটনার ১৭ দিন পরও তদন্ত কার্যক্রম এখনো রয়ে গেছে অন্ধকারেই। কবে নাগাদ রহস্য উদঘাটন হবে তা- ‘অনুমান’ করেও বলতে পারছেন না কেউই! তবে ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার বলেছিলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সাহসী অভিযান পরিচালনা করায় তারা বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে হত্যা করতে পারে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট পিবিআইয়ের একটি সূত্র বলেন, জেএমবি সদস্য ফুয়াদকে রিমান্ডে এনে মিতু হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু মিতু হত্যার বিষয়ে তার কাছ থেকে কোন তথ্যই পাওয়া যায়নি। তাছাড়া সার্বিক দিক বিবেচনায় এই কাজটা জেএমবি করেছে বলে মনে হচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, বড় কোন মাফিয়া চক্র, পেশাদার কিলার দিয়ে এ কাজটি করিয়েছে; যারা বাবুল আক্তারের পেশাগত কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
সূত্রটি আরো বলেন, জঙ্গিরা দেশে কোন সময় মহিলা হত্যা করেছে এমন নজির নেই। এরপর একটি জঙ্গি গোষ্টি এ ঘটনায় নিন্দাও জানিয়েছে। রহস্য উদঘাটনে আমরা চেষ্টা করছি। এখন এ নিয়ে আমাদের টিম রাত-দিন কাজ করছে। ভালো সংবাদের জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে মিতু হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন আসামি রবিনকে গ্রেফতারের দিন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ বলেছিলেন, রবিন মূল আসামিদের একজন হওয়ার সম্ভাবনা ৭০ ভাগ। পরে প্রেস বিফ্রিংয়ে অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য্য জানান, রবিন ছিনতাইকারী ও পেশাদার অপরাধী। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মিতু হত্যার বিষয়ে কিছু পাওয়া যায়নি।
তদন্তের অগ্রগতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপকমিশনার (উত্তর) পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘আমার কাছে কেন জানতে চাচ্ছেন? মামলা তদন্ত করছে ডিবি, তাদের কাছে জানতে চান।’
এদিকে মিতু হত্যায় জড়িত সন্দেহে হাটহাজারী থেকে আবু নছর গুন্নু নামের একজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তার পরিবারের সদস্য ও একটি মাজার কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করা হয় ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে মামলায় গুন্নুকে ফাঁসানো হয়েছে।
মিতু হত্যা মামলা তদন্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মোকতার হোসেন বলেন, ‘কিছু জানি না।’
এদিকে এসপিপত্মী বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার বিষয়ে জানার জন্য পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার ও অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্যের মুঠোফোন বারবার ফোন করেও তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।
