চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ভারতীয় শিক্ষার্থী আতিফ শেখ হত্যা মামলায় গ্রেফতার সহপাঠী মাইসনাম উইনসন শিংকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আল ইমরানের আদালত এ বিষয়ে শুনানির জন্য রোববার দিন ধার্য্য করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ভারতীয় শিক্ষার্থী আতিফ শেখকে কেন, কী কারণে, কারা তাকে খুন করেছে সে রহস্যের জট এখনো খোলেনি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মামলার আসামি আতিফের সহপাঠী মাইসনাম উইনসন শিংকে দুই দফায় রিমান্ডে নেয়া হয়। প্রতিবারই তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার আগে ও পরের কথা তার সব মনে আছে। তবে আতিফ কীভাবে খুন হয়েছে এবং নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন সেটি তার স্মৃতিতে নেই।
তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে উইনসনের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে উইনসনের মানসিক কিংবা শারীরিক কোন সমস্যা নেই। হয়তো সে কিছু আড়াল করতে চাইছে। এ অবস্থায় তাকে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছি বৃহস্পতিবার। এ বিষয়ে আগামী রোববার আদেশ দেবেন আদালত।
গত ১৪ জুলাই রাতে নগরের আকবর শাহ থানার আবদুল হামিদ সড়কের লেকভিউ সোসাইটির একটি আবাসিক ভবনের পঞ্চমতলার ফ্ল্যাটে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় আতিফকে। ওই কক্ষ থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মাইসনাম উইনসন সিংকে উদ্ধার করা হয়। তারা দুজনই ইউএসটিসির এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
আতিফ খুন হওয়ার চার দিন পর ১৮ জুলাই তার বাবা আবদুল খালেক বাদী হয়ে নগরের আকবর শাহ থানায় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয়, দুজন বাংলাদেশি। আট আসামির মধ্যে দুই ভারতীয় গুরঙ্গ নিরাজ ও মাইসনাম উইনসনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে আকবর শাহ থানার পুলিশ। পরে পিবিআই তদন্ত শুরু করে।
গুরঙ্গ নিরাজকে দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ২৭ জুলাই আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ পারভেজের আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন। দুই দফা রিমান্ডে নিয়েও কোনো তথ্য না পাওয়ায় ৭ আগস্ট মাইসনাম উইনসনের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে উইনসনকে পরীক্ষার নির্দেশ দেন আদালত।
