চট্টগ্রাম: ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ছাত্রলীগের বিলুপ্ত হওয়া আহ্বায়ক কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দ ইমাম বাকেরের বিরুদ্ধে।
ছাত্রলীগ সভাপতির ‘চুয়েট সফরের ব্যয়’ মেটাতে ছাত্রলীগ নেতা বাকের ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ চুয়েট এলাকার খাজা গরীবে নেওয়াজ রেস্টুরেন্টের মালিক মো. আনোয়ারের।
তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি আজকে (শুক্রবার) আসরের নামাজ পড়তে বসেছি, তখন রিং দিয়েছে দুইবার। নামাজ শেষ করার পর দেখি আবার ফোন দিয়েছে, এবার রিসিভ করলাম। এরপর বলে, অামি চুয়েট থেকে বাকের বলছি, আমাদের পার্টির প্রেসিডেন্ট আসতেছে, তাকে এয়ারপোর্ট থেকে আনা-নেয়া করতে হবে, গাড়ি ভাড়াটা আপনাকে দিতে হবে।’
‘তখন আমি বলি, আপনার সভাপতি আসতেছে সেজন্য আমি কেন টাকা দেব? তখন সে বলে, এটা আমরা চাইতেছি।’
টাকা দিতে পারবেন না বলে বাকেরকে সাফ জানিয়ে দেন উল্লেখ করে আনোয়ার বলেন, ‘অপারগতা প্রকাশ করায় বাকের বলেন, আপনি ভুল করছেন। ভেবে বলুন। আপনারা ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন আমাদের খরচ-পাতি দেবেন না?’
‘তখন আমি বলি- সরি, অাপনি ভুল জায়গায় নক করেছেন। আমি কী নোয়াখালী থেকে এসেছি? আমার বাড়ি রাউজানে, এই চুয়েটের পাশে।’ বলেন আনোয়ার।
‘এরপর বাকের বলে, আমি এখন গিয়ে আপনার দোকানে তালা মারবো। তখন আমি বলি, তুমি তালা মারতে পারলে মারো। আমি যদি পারি খুলবো। আমি এখনই আমাদের এমপি সাহেবকে ফোন দিচ্ছি।’
রেস্টুরেন্টের মালিক আনোয়ার বলেন, ‘এ কথা শুনে সে ফোন কেটে দিয়েছে। এরপর এসে আমার দোকানে তালা মেরে দিয়েছে। পরে আমি আমার ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি চুয়েটের ভিসি স্যারকে জানানোর জন্য। এরপর ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা মশিউর রহমান স্যারকে জানিয়েছি; তিনি বললেন, চুয়েট ক্যাম্পাসের ভেতর কিছু হলে আমরা কাজ করতে পারতাম। এটা তো বাইরের ব্যাপার।’
উপায়ান্তর না দেখে ভুক্তভোগী আনোয়ার ফোন করে সহযোগিতা চান ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্য ও চুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন-আহ্বব্বায়ক মোসলেহ উদ্দিনের কাছে। এরপর তার হস্তক্ষেপে সচল হয় খাজা গরীরে নেওয়াজ রেস্টুরেন্ট।
জানতে চাইলে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্য মোসলেহ উদ্দিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আনোয়ার ভাই আমাকে ফোন করে জানান, তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চেয়েছে বাকের। ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ ভাইয়ের নামে সে ওই টাকাটা চায়। না দেয়ায় দোকানে তালা মেরেছে বাকের। এই ঘটনা জানার পর আমি ফোন করে দক্ষিণ রাউজান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিনকে ডেকে আনি। পরে ছেলেদের পাঠিয়ে বাকেরের কাছ থেকে দোকানের চাবি নিয়ে আসি আমরা। এরপর দোকান খুলে দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘সোহাগ ভাইয়ের নামে চাঁদাবাজি চললেও তিনি এ ব্যাপারে জানেন না- এটা আমি নিশ্চিত। আমি একটা পদে আছি, আমার অজান্তেও কেউ এভাবে টাকা আদায় করতে পারে। তাই চাঁদাবাজি বন্ধে আমি একেবারে কঠোর। ছাত্রলীগের নাম দিয়ে চুয়েটে কোন ধরনের চাঁদাবাজি আমি করতে দেব না।’
অভিযোগের বিষয়ে চুয়েট ছাত্রলীগের বিলুপ্ত হওয়া আহ্বায়ক কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দ ইমাম বাকের একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ভাই, এগুলো কী বলেন! আমি কেন চাঁদা চাইতে যাবো? আমার এরকম কোন রেকর্ড নেই। নতুন কমিটি দেবে, এসব নিয়ে আমি একটু দৌড়ে আছি। এ অবস্থায় এ ধরনের কিছু করলে, সেটা ইমেজের জন্য খারাপ না?’
‘কমিটি দেবে তাই অপরাজনীতি চলছে। রোটন ভাই আর করিম ভাইয়ের লোকজনের মধ্যে। আমি তো করিম ভাইয়ের রাজনীতি করি। রোটন ভাইয়ের লোকজন পেছনে লেগে আছে। কিছুদিন আগে আমরা ভর্তি পরীক্ষায় ভালো কাজ করলাম। এখন নাম খারাপ করার জন্য এসব বলতেছে।’ বলেন বাকের।
