
ঢাকা : আওয়ামী লীগের শাসনামলে (২০০৯-২০২৩) দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে বলে প্রকাশ পেয়েছে। অর্থনীতির অবস্থা মূল্যায়নে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে, এই ১৫ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকার সমান। এই অর্থ দিয়ে ৭৮টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব!
রোববার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.৪ শতাংশ। পাচারের এই অর্থ দেশের রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের মোট বৈদেশিক মুদ্রার এক-পঞ্চমাংশ এবং জাতীয় সঞ্চয়ের ১১.২ শতাংশ।
কোথায় কোথায় দুর্নীতি?
প্রতিবেদনে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হিসেবে ব্যাংকিং খাত, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য খাতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
* মেগা প্রকল্প: পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প, রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ৭টি মেগা প্রকল্পের ব্যয় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
* এডিপি: ১৫ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৭ লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে, যার ৪০ শতাংশ আমলাদের লুটপাটের শিকার হয়েছে।
* কর অব্যাহতি: কর অব্যাহতির পরিমাণ ছিল জিডিপির ৬ শতাংশ।
* বিদ্যুৎ খাত: বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।
* ব্যাংকিং খাত: খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ পাচারের মাধ্যম:
প্রতিবেদনে অর্থ পাচারের বিভিন্ন মাধ্যম চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
* বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিং
* নগদ মানি লন্ডারিং
* ব্যাংক, শেয়ারবাজার এবং বিমা খাতের অপব্যবহার
* অনলাইন পেমেন্ট
* হুন্ডি
* ব্যাংক গ্যারান্টির অপব্যবহার
* স্বর্ণ স্মাগলিং
প্রধান উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া:
ড. ইউনূস এই প্রতিবেদনকে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেছেন এবং এটি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কমিটির সুপারিশ:
অর্থ পাচারে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার জন্য বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করার সুপারিশ করেছে কমিটি।
কমিটির সদস্য:
শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটিতে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং গবেষকরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এই প্রতিবেদন দেশের অর্থনীতিতে দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। এর ফলে সরকারের উপর অর্থ পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চাপ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
