সন্তানকে খুন করে ঝুলিয়ে দেয় বাবা : দুই বছর পর বেরোল কঠিন সত্য

চট্টগ্রাম: দুই বছর আগে চট্টগ্রাম নগরে ১০ বছরের শিশুকে খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। একই সঙ্গে নিজের সন্তানকে খুনের পর বাঁশের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া বাবা মো. আলী ওরফে খোরশেদকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

গ্রেফতার খোরশেদ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বিবিরহাট দৌলতপুর এলাকার ফারুক আহমেদের ছেলে।

পুলিশ জানায়, ২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর নগরীর উত্তর কাট্টলী শান্ত নীল চৌধুরী বাড়ি মাজেদার কলোনীর একটি ভাড়া বাসা থেকে ১০ বছরের শিশু উম্মে সালমা রীমার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেন, খুনের শিকার হয়েছেন রীমা। এরপর থানায় হত্যা মামলা রেকর্ড হয়। পরে মামলার তদন্তভার যায় নগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। এরই এক পর্যায়ে শুক্রবার সন্দ্বীপ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে খোরশেদকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এরপর জিজ্ঞাসাবাদে খোরশেদ পুলিশকে জানিয়েছে, ২০০৫ সালে রুমা আক্তারকে ভালোবেসে বিয়ে করেন খোরশেদ। ২০১১ সালে খোরশেদ দ্বিতীয় বিয়ে করলে সংসারে অশান্তি শুরু হয়। ঘটনার দিন সকালে প্রথম স্ত্রী রুমা আক্তার বাসায় কিছু রান্না করে না রেখে গার্মেন্টসের চাকরিতে চলে যায়। ঘুম থেকে উঠে কিছু খেতে না পেরে খোরশেদ ক্ষুব্ধ হয়। এরই মধ্যে মেয়ে রীমা বাবার কাছে নাস্তার জন্য টাকা চায়। তখন সে রীমাকে আঘাত করলে সে মারা যায়। এরপর মেয়ের মৃতদেহ ঝুলিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় খোরশেদ।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. আবু ছালেক বলেন, নিহতের বাবা খোরশেদের দ্বিতীয় বিয়ের সূত্র ধরে তদন্তে অগ্রসর হই আমি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার সন্দ্বীপ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে খোরশেদকে গ্রেফতার করি। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ননা দেয়। তাকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।