
ঢাকা : রোজার আগেই বাজারে ভোজ্য তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে বোতলজাত তেল উধাও হয়ে গেছে। দুই-এক দোকানে মিললেও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। খোলা তেলের ওপর চাপ বাড়ায় দামও হু-হু করে বেড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ঠিক একই সময়ের (অক্টোবর-নভেম্বর) তুলনায় ২০ শতাংশ সয়াবিন তেল কম আমদানি হয়েছে। তারপরও যে পরিমাণ তেল আছে তা দিয়ে অনায়াসে আরও দুই মাস চলবে। এছাড়া এর আগের তেলও মিলে আছে। সঙ্গে পাইপলাইনে থাকা তেলও রোজার আগেই দেশে ঢুকবে।
তারপরও বিশ্ববাজারে দাম বেশি ও আমদানি কমের অজুহাতে ৬ কোম্পানি কারসাজি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোজা শুরুর চার মাস (নভেম্বর) আগ থেকেই ডিলারের কাছে পর্যাপ্ত সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। এতে খুচরা পর্যায়েও কমেছে সরবরাহ।
এদিকে ২০২২ সালে মার্চেও ভোজ্যতেল নিয়ে আমদানিকারক ও উৎপাদক ছয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কারসাজির প্রমাণ পেয়েছিল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তখন দেখা যায়, অতি মুনাফা করতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর সিন্ডিকেট বাজারে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেয়।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, সংকটের কোনো কারণ নেই। রোজা ঘিরে কোম্পানিগুলো এমন কারসাজি করছে। সরকারের উচিত এখন কোম্পনিগুলোর কাছে কী পরিমাণে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত তেল মজুত আছে তার খোঁজ নেওয়া। কোনো অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের মুদি দোকানগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন নেই। দু-একটি দোকানে পাওয়া গেলেও রাখা হচ্ছে গায়ের দাম থেকে বেশি।
ভোজ্যতেলের সরবরাহ বাড়াতে ও বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানিতে দুই দফায় শুল্কু-কর কমানো হয়েছে। তারপরও তেলের বাজারে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বাজারে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে ভোজ্যতেলের বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। কেন বাজার থেকে উধাও হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম সামনে এলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
