বাঁশখালীর ঘটনায় মামলা, এমপির পিএস-চাচাসহ আসামী ২২

মোর্শেদ নয়ন : বাঁশখালীতে আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটন গ্রুপের উপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের চাচা, ব্যক্তিগত সহকারীসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সে দিনের হামলায় গুলিবিদ্ধ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আনিসুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটন এর অনুসারী।

থানা সূত্রে জানা যায়, মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের চাচা সরল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ চৌধুরীকে। এমপি’র ব্যক্তিগত সহকারী বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামকে মামলার ২নং আসামী করা হয়। ২২জন ছাড়াও আরো ২০/৩০জন অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে মামলায়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আ’লীগের প্রয়াত প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্মরণসভায় যাওয়ার পথে বাঁশখালী পৌর সদরের অদূরে সরল ইউনিয়নের পাইরাং এলাকায় বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান এর অনুসারীরা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটন এর অনুসারীদের উপর হামলা চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ ১৩ জনসহ কমপক্ষে ২৩ জন আহত হন।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় একপক্ষ মামলা দায়ের করেছে। দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, আবদুল্লাহ কবির লিটনকে ঠেকাতে বাঁশখালীর প্রধান সড়কের পাইরাং এলাকায় দেলাইয়ার দোকানের সামনে সড়ক অবরোধ করেন এমপির অনুসারীরা। দেলাইয়ার দোকানের সামনে লিটন আটকে পড়ার খবর পেয়ে তার অনুসারীরা অলি মিয়ার দোকানের সামনে জড়ো হন। এ সময় গুলিবিনিময় শুরু হয়। চলে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এসময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে লোকজন দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন। প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে চট্টগ্রাম-বাঁশখালী সড়কে।

সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের প্রায় তিন শতাধিক অনুসারী দা, কিরিচসহ দেশীয় অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। অন্যদিকে লিটনের অনুসারীরাও সড়কে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ পাহারায় আবদুল্লাহ কবির লিটনকে সভাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত আটটায় সভা শেষ করে লিটনকে আবার পুলিশ পাহারায় চট্টগ্রাম শহরের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

আহতদের মধ্যে ১৭ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যদের বাঁশখালীর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।