শংকর চৌধুরী, খাগড়াছড়ি : পার্বত্যাঞ্চল খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদ রামগড় মহুয়া শহরের সুখেন্দ্র রায় পাড়ায় ১৯৫৮ সালের ১৫ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন যুথিকা ত্রিপুরা। জাতি গড়ার কারিগর হিসেবে ১৯৭৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাঙামাটির স্বর্ণটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা পদে কর্মস্থলে যোগদান করেন। সর্বশেষ খাগড়াছড়ি জেলা সদরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সৎ ও নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় দীর্ঘ ৪১ বছরের কর্মজীবন শেষে অবসরে যাচ্ছেন, মমতাময়ী এই শিক্ষিকা।
মঙ্গলবার ১৪ নভেম্বর মঙ্গলকামনাময়ী এই জননীর কর্মজীবনের শেষ দিন। যেতে নাহি দিব, হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়। দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা শনিবার ১১ নভেম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজন করে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রবীণ এই শিক্ষিকাকে বিদায় সংবর্ধনা ক্রেস্ট তুলে দেন।
বিদায় বেলায় যুথিকা ত্রিপুরা বলেন, আমার ভুলগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এটাই আমার প্রত্যাশা। আবেগাপ্লুত হয়ে কথাগুলো যখন সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলছিলেন তখন চোখ ছল ছল করছিল। ছাত্র-ছাত্রী ও সহকর্মীদের সাথে কথা বলতে গিয়ে এভাবেই বার বার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ছিলেন দীর্ঘ ৪১ বছর শিক্ষকতা জীবনে জ্ঞানের আলো ছড়ানো যুথিকা। দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বিদায় বেলায় অশ্রুসিক্ত নয়নে একরাশ ফুলেল শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনি আমরা। অবসর জীবনের সুন্দর জীবন যাপন প্রত্যাশা করে পরম করুণাময়ের নিকট তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
যুথিকা ত্রিপুরার স্বামী বিপুলেশ্বর ত্রিপুরা সড়ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সংসার জীবনে তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে বসুন্ধরা ত্রিপুরাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। ছোট মেয়ে কলেজ পড়ুয়া এবং একমাত্র ছেলে শংকর জয় ত্রিপুরা চট্টগ্রামের বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যায়নরত।
