চট্টগ্রাম: গুরুতর অসুস্থ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিতে একজন চিকিৎসককে স্কয়ার হাসপাতালে পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিষয়টি জানিয়ে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রণি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রিয় নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা রাত ৯ টার দিকে তার একজন পারিবারিক চিকিৎসককে হাসপাতালে পাঠিয়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন। এর কিছু সময় পর প্রিয় নেতার কিডনি ডায়ালাসিস শুরু হয়েছে। ৬ ঘন্টা পর্যন্ত এটা চলবে। পরবর্তী করনীয় এর পরে জানা যাবে।’
এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মহিউদ্দিনকে দেখতে হাসপাতালে যান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীর চিকিৎসার খবর নেন। পরে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে কাদের সাংবাদিকদের বলেন, দলীয় ব্যবস্থায় আমরা মহিউদ্দীন ভাইকে চেন্নাই পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। ওনার অবস্থা কিছুটা স্ট্যাবল; সেন্স আছে। ওনার মেসিভ অ্যাটাক হয়েছে।
রোববার বেলা ৩ টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে চট্টগ্রাম থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত থাকেন মহিউদ্দিনের সন্তান ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।
এর আগে শনিবার রাত সোয়া ১০ টার দিকে হঠাৎ অসুস্থতাবোধ করলে নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ভর্তি করা হয়। ডাক্তাররা তার শারীরিক অবস্থা দেখে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র-আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। অসুস্থ আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিনের দুটি কিডনিতে সমস্যা। পা দুটো দুর্বল। শরীর উপরের দিকে ভারি এবং নিচের দিকে হালকা হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে হার্ট, ডায়বেটিক, রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন তিনি। অনেকবার তার ওপেন হার্ট সার্জারি হয়েছে। অনেকটা মনের জোরেই চলছিলেন বর্ষীয়ান এ নেতা।
মহিউদ্দিনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খান বলেন, উনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আগে থেকে হার্টে বাইপাস করা আছে। উনার কিডনির সমস্যাও আছে। অবস্থা স্থিতিশীল হওয়ার পর ওনাকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
মহিউদ্দিনের চিকিৎসক প্রফেসর ডা.নাসির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, মৃদু হার্ট অ্যাটাক এবং কিডনির সমস্যার কারণে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। হাসপাতালে ভর্তির পর রাত ৩টার দিকে তার অবস্থার অবনতি হয়। তবে সকালে তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়।
মহিউদ্দিনের ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ ওসমান বলেন, ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি এখন আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ। দীর্ঘদিন ধরে হদযন্ত্র ও কিডনির জটিলতায় ভুগছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে ওনাকে ভারতের চেন্নাই অথবা সিঙ্গাপুরে নেওয়া হতে পারে।
এদিকে মহিউদ্দিনের সন্তান ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বাবার সুস্থতা ও সুচিকিৎসার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত। বাবার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান তিনি।
এদিকে মহিউদ্দিনকে ঢাকায় স্থানান্তরের জন্য এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে আসে হেলিকপ্টার। সে সময় স্টেডিয়ামের মূল ফটকের বাইরে অপেক্ষমান ছিলেন হাজারো নেতাকর্মী। তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। নেতাকর্মীদের ভিড়ে অ্যাম্বুলেন্স থেকে মহিউদ্দিনকে নামিয়ে স্ট্রেচারে করে হেলিকপ্টারে নিতে বেগ পেতে হয়। এরপর মহিউদ্দিনের জামাতা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতারসহ কয়েকজন চিকিৎসক এবং আওয়ামী লীগ নেতারা মিলে মহিউদ্দিনকে হেলিকপ্টারে তুলে দেন। এসময় নেতাকর্মীদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সে সময় স্টেডিয়ামে ছিলেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের শফিক আদনান, শফিকুল ইসলাম ফারুক, জামশেদুল আলম চৌধুরী, হাসান মনসুর, কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, গিয়াসউদ্দিন, হাসান মুরাদ বিপ্লব ও নীলু, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্ছু, যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ ও মাহবুবুল হক সুমন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, নগর যুবলীগের সদস্য শেখ নাছিরউদ্দিন, নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হক মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে অসুস্থ সভাপতি মহিউদ্দিনকে দেখতে রোববার সকালে ম্যাক্স হাসপাতালে যান নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। তিনি মহিউদ্দিনের পাশে কিছু সময় থেকে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছেন। চট্টগ্রামের তিন বারের মেয়র মহিউদ্দিন অসুস্থ শরীরেও শনিবার বিকালে নগরীতে মহানগর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে বক্তব্য রাখেন। টানা তিনবার নির্বাচিত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ২০১০ সালে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে পরাজিত হন। এরপরও চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতির বড় অংশের নিয়ন্ত্রক হিসেবে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদকে ধরা হয়।
