৭ লক্ষাধিক বই বাতিল, নির্ধারিত সময়ে বই পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা


ঢাকা : জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ছাপানো পাঠ্যবইয়ের মান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ১১৬টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেও, একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রায় ৪০ ভাগ টেন্ডারে একক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়, যার ফলে বইয়ের মূল্য ১৬-২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। অধিক মুনাফার লোভে কিছু ছাপাখানা রাতের আঁধারে নিম্নমানের কাগজে বই ছাপানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এনসিটিবি কর্মকর্তাদের পরিদর্শনে গত এক মাসে সাত লক্ষাধিক নিম্নমানের পাঠ্যবই ও বইয়ের ফর্মা বাতিল করা হয়েছে। কোনো ছাপাখানায় কাগজের মান খারাপ, আবার কোনোটির বাইন্ডিং ত্রুটিপূর্ণ, কারো কারো বইয়ের মলাট খুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা গেছে।

সরকার মানসম্মত বই বিতরণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তৃতীয় পক্ষের দুটি ইন্সপেকশন এজেন্সি, গোয়েন্দা সংস্থা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োজিত ১৫০ জন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক নিয়মিত ছাপাখানা তদারকি করছেন।

চলতি শিক্ষাবর্ষে ৪০ কোটি ১৪ লক্ষ ৯৫ হাজার ৮৪১টি পাঠ্যবই ছাপানোর কাজ চলছে। কাগজের মান উন্নয়নে পুরুত্ব ৭০ থেকে ৮০ এবং উজ্জ্বলতা ৮০ থেকে ৮৫ করা হয়েছে। একই সাথে বার্স্টিং ফ্যাক্টর ১৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান জুনায়েদুল্লাহ আল মাহফুজ ২৫ মার্চ পর্যন্ত সময় চেয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর চিঠি পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে তিনি সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমা চেয়েছেন।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান জানান, প্রাথমিকের সব বই এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বই ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এবং বাকি বই জানুয়ারির ২০ তারিখের মধ্যে স্কুলে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মুদ্রণ মালিক সমিতিও এতে সম্মতি জানিয়েছে। তবে, নিম্নমানের বই বাতিল ও সময়সীমা পেছানোর দাবির কারণে নির্ধারিত সময়ে সকল শিক্ষার্থীর হাতে বই পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।