ফটিকছড়িতে এক কর্মকর্তা চালাচ্ছেন ২২৯টি বিদ্যালয়


ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে জনবল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ১৫ জনের স্থলে মাত্র তিন জন দিয়ে চলছে কার্যালয়ের কার্যক্রম। ফলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শিক্ষা কার্যালয়ে এসে নানান কাজে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২২৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৫ হাজার ৭৬ জন শিশু পড়ালেখা করে। তাদের জন্য ১ হাজার ৫৫৬ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষক ৬১ এবং সহকারী শিক্ষক ১১০টি পদ।

এসব বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে একজন শিক্ষা কর্মকর্তা (ইউইও), আটজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এইও), একজন উচ্চমান সহকারী, তিনজন অফিস সহকারী, একজন হিসাব সহকারী এবং একজন পিয়নের পদ রয়েছে। ১৫টি পদের মধ্যে বর্তমানে ১২টি পদই খালি। ২০১৫ থেকে গত ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সবাই অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন।

বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন একজন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এইও)। তিনিই এখন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা (ইউইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অফিস সহকারীর চারটি পদ সবকটিই খালি। এখন শুধু একজন হিসাব সহকারী এবং একজন পিয়ন কর্মরত আছেন।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক কমিটির কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ধুরুং জুবলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, “উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভাবে শিক্ষকেরা টাইম স্কেল, বকেয়া বেতন, উন্নীত বেতন স্কেল পাওয়াসহ নানান কাজে কার্যালয়ে এসে ভোগান্তিতে পড়েন। পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এখানে জরুরি ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী পদায়ন করা জরুরি।”

উপজেলার আনোয়ার আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আজমীর উদ্দিন বলেন, “কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শূন্যতায় আমাদের প্রশাসনিক নানা কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া ঊর্ধ্বতনদের বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন ও ক্লাস্টার পরিচালনা কাজে নানাভাবে অভাব বিদ্যমান রয়েছে।”

উপজেলার রোসাংগিরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আজিম উদ্দিন বলেন, “শিক্ষা কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভাবে তারা ক্লাস্টারে যথাযথ সময় দিতে পারেন না। একটি ক্লাস্টারে নিয়মিত সময় দিতে না পারায় তাদের পাঠদানেও ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়া নানা প্রশাসনিক কাজও বিঘ্নিত হচ্ছে। এটি সহসা সমাধান হওয়া জরুরি।”

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, ২০১৮ সালের জুলাইয়ে টাইম স্কেল পাওয়ার কথা। কিন্তু কয়েক মাস ধরে কার্যালয়ে এসেও তা পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে প্রত্যেক মাসের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এছাড়া বিদ্যালয়ের নানা ধরনের প্রশাসনিক কাজেও তারা ভোগান্তিতে পড়েন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাসান মুরাদ চৌধুরী বলেন, “কার্যালয়ে আমিই একমাত্র ব্যক্তি, যেখানে সব কাজ আমাকে করতে হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটের কারণে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ পরিচালনাসহ যাবতীয় কাজকর্ম আমাকে করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। ফলে শিক্ষা কার্যালয় ও শিক্ষাব্যবস্থা একরকম স্থবির হয়ে পড়েছে। শূন্য পদগুলো পূরণে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, বিশাল উপজেলায় এতগুলো পদ খালি থাকলেও চলতি বছরে পাশের হার ছিল সন্তোষজনক। এটি উপজেলার জন্য অবশ্যই ইতিবাচক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “এটি আসলে মারাত্মক ভাবে ভোগাচ্ছে। আমি ইতিপূর্বে শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য জেলার মাসিক সমন্বয় সভায় জানিয়েছি। ব্যক্তিগতভাবে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি। শীঘ্রই পদগুলো পূরণ করা হবে বলে আমি আশাবাদী।”