হাইকোর্টের নির্দেশে চসিকের তিনটি ঘাটের নিলাম স্থগিত

উচ্চ আদালত
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) পরিচালিত সদরঘাট, অভয়মিত্রঘাট ও বাংলাবাজার ঘাটের নিলাম প্রক্রিয়া ছয় মাসের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কর্ণফুলী নদীর এই তিনটি ঘাটের ইজারা নিয়ে চসিক ও সাম্পান মাঝিদের মধ্যে চলমান বিরোধের মধ্যেই এই স্থগিতাদেশ এলো।

রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরোয়ার কামাল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সরোয়ার কামাল জানান, আদালতের আদেশ মেনে আপাতত তিনটি ঘাটের নিলাম কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

আইনজীবী মিজানুর রহমানের দেওয়া তথ্যমতে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি এ.কে.এম. আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সাঈদ এনায়েতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ একটি রুল জারি করেন এবং ১৬ জানুয়ারির দরপত্র বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত করেন। রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাটগুলোর ইজারা নিয়ে চসিক এবং স্থানীয় সাম্পান মাঝিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। মাঝিদের অভিযোগ, চসিক আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে বহিরাগত ব্যবসায়ীদের কাছে ঘাট ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, এই ঘাটগুলোর উপর ২১৪ জন সাম্পান মাঝিসহ প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল।

চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান চালক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, মাঝিদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা চসিকের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন এবং অভয়মিত্র ঘাটের ইজারা মাঝিদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আবুল হোসেন আরও বলেন, “চসিক পেশাদার মাঝিদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করে বহিরাগতদের ইজারা দিতে চাইছে। এর ফলে কর্ণফুলীর মাঝিরা কর্মহীন হয়ে পড়বে, যা মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।” তিনি আদালতের আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত মাঝিদের হাতেই ঘাট থাকা উচিত।

কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এস এম পেয়ার আলী বলেন, “২০০৩ সালের পাটনিজীবী নীতিমালা উপেক্ষা করে মাঝিদের উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন দ্রুত মাঝিদের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসবে।