বাজারে সয়াবিন তেল উধাও, সিন্ডিকেটের কারসাজি?


পবিত্র রমজান মাস আসন্ন। আর মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই শুরু হচ্ছে রোজার মাস। অথচ এখনই বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো সরবরাহ বাড়ানোর দাবি করলেও, বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। দোকানগুলোতে সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কোথাও পাওয়া গেলেও, তা কিনতে হচ্ছে চড়া দামে।

ভোক্তাদের অভিযোগ, রমজানের আগেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। দোকান ঘুরেও চাহিদামাফিক সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো দোকানে ৫ লিটারের বোতল নেই, আবার কোথাও ১ বা ২ লিটারের বোতল উধাও। এই পরিস্থিতিতে প্রতিদিনের রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় এই পণ্যটি কিনতে গিয়ে ভোক্তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদামাফিক বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। এতে করে একদিকে যেমন ক্রেতাদের কাছে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে, তেমনি ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখেও পড়ছেন তারা।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) তথ্যমতে, দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ২৪ লাখ টন। রমজানে চাহিদা থাকে প্রায় ৩ লাখ টন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন জানিয়েছেন, রমজানের পণ্যগুলোর মধ্যে তেলে সমস্যা রয়েছে। তবে, আগামী ৭-১০ দিনের মধ্যে বাজার স্থিতিশীল হয়ে সরবরাহ ঘাটতি দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানিগুলো আগের মতোই দাম বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। বাজারে সরবরাহ করা তেল মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী বোতলই পাচ্ছেন না।

কোম্পানিগুলো পোলাওয়ের চালের প্যাকেট কিনতে বাধ্য করছে বলেও অভিযোগ করেছেন খুচরা বিক্রেতারা।

সয়াবিন তেলের বড় মোকাম রাজধানীর মৌলভীবাজারেও সরবরাহ কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় দামও বেড়েছে।

তবে, পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো দাবি করছে, বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। রমজান উপলক্ষে আরও ভোজ্যতেল পাইপলাইনে রয়েছে। সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ এবং টিকে গ্রুপসহ অন্যান্য উৎপাদনকারীরাও সরবরাহ বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে।

প্রায় দেড় লাখ টন ভোজ্যতেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করার অপেক্ষায় রয়েছে। এই তেল শিগগিরই বাজারে আসার কথা। ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, মাঠপর্যায়ে অতিরিক্ত মজুদ বা খোলা বাজারে বিক্রির কারণে সংকট তৈরি হতে পারে। প্রতিবেশী দেশে পাচারের আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ।

বিটিটিসি বলছে, বাজারে ভোজ্যতেলের কোনো ঘাটতি নেই। কৃত্রিম সংকট এবং তথ্যের ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমদানির পরিমাণ এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার হার ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্ববাজারেও ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন মনে করেন, ট্যারিফ কমিশনসহ অন্যান্য সংস্থার ব্যর্থতার কারণে বারবার বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোম্পানি ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কারসাজিতে ভোক্তাদের পকেট কাটা হচ্ছে। সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। দশ দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দেয়া হলেও, এই সময়ে ভোক্তারা যে ক্ষতির শিকার হবেন, তার ক্ষতিপূরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।