
২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ, পাচার ও চোরাকারবারের অভিযোগে অভিযুক্ত ২২ মামলার আসামি হাবিবুর রহমান অপু ওরফে অপু চাকলাদারের জামিন আবেদন ঘিরে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে। জামিন নামঞ্জুর করায় বিচারকের বিরুদ্ধে বিষোদগার, এজলাসে হট্টগোল, এমনকি আদালত বর্জনের মতো ঘটনাও ঘটেছে।
গত ১৭ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকের এক প্রতিবেদনে অপু চাকলাদারকে মুক্ত করতে বিশাল অঙ্কের বাজেট ঘোষণার আভাস দেওয়া হয়। এর তিন সপ্তাহের মাথায় ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে জামিন আবেদন করেন অপু চাকলাদারের আইনজীবীরা। ঢাকা বারের অ্যাডহক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান দীপুর নেতৃত্বে কয়েকজন আইনজীবী জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন।
কিন্তু ট্রাইব্যুনালের বিচারক নূরে আলম অপরাধের ধরণ ও মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আইনজীবীরা বিচারককে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে এজলাসের ভেতরে হট্টগোল শুরু করেন এবং বিচারককে এজলাস ছেড়ে চলে যেতে বলেন।
জামিন না দেওয়ায় আইনজীবীরা এজলাসের বাইরে এসে বিচারকের অপসারণ দাবি করে শ্লোগান দেন এবং আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) চতুর্থ দিনের মতো আইনজীবীরা ঢাকা বারের অ্যাডহক কমিটির ব্যানারে এই বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন। তারা বিচারক নূরে আলমের বিরুদ্ধে ‘পেশাগত অসদাচরণে’র অভিযোগ তুলে প্রধান বিচারপতির কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিচারকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’ বিচারক নূরে আলমের আদেশকে সাংবিধানিক ও আইনানুগ দাবি করে পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে।
সংগঠনটি বিচারকের ওপর চড়াও হওয়া আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের, তাদের সনদ বাতিল এবং আইনজীবীদের বিরুদ্ধে হওয়া সমস্ত আদালত অবমাননার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় সারা দেশের বিচারকদের কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।
