সোনা চোরাচালানের ৯৯ শতাংশই ধরাছোঁয়ার বাইরে: এনবিআর চেয়ারম্যান


জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেছেন, দেশে আসা সোনার ৯৯ শতাংশই চোরাচালানের মাধ্যমে আসে এবং তা ধরা যায় না। তিনি এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, চোরাচালান দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, “দেশে সোনা চোরাচালানের ৯৯ শতাংশই ধরা পড়ে না। এটি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এই খারাপ কাজ বন্ধ হওয়া উচিত।”

তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, যদি সোনা চোরাচালান না হয়ে থাকে, তাহলে বাজারে এত সোনার উৎস কী? এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, তারা ১০০টি চোরাচালানের মধ্যে মাত্র একটি ধরতে পারেন, বাকি ৯৯টি নানা কারণে ধরা সম্ভব হয় না।

আবদুর রহমান খান আরও বলেন, “বাজারে এত সোনা, অথচ আমদানি নেই। এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই, আমি এর জবাব খুঁজতে চাই।”

তিনি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীমের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সোনা চোরাচালান ঘিরে ‘মাল্টিন্যাশনাল কিলিং’-এর মতো ঘটনা ঘটছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, সিলেটে সম্প্রতি সাড়ে ১৭ কেজি সোনা জব্দ করা হয়েছে। চোরাচালানের কারণে একদিকে যেমন বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হয়, তেমনি অন্যদিকে খুনখারাবির মতো ঘটনাও ঘটে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশ থেকে আসা যাত্রীরা ব্যাগেজ রুলসের আওতায় কর দিয়ে সোনা আনেন, কিন্তু আমদানিকারকদের জন্য কর অনেক কম।

বৈঠকে বাজুস নেতারা জানান, ব্যবসায়ীরা গত দুই বছর ধরে আর্থিক সমস্যার কারণে সোনা আমদানি করতে পারছেন না। তারা এনবিআরের কাছে করহার কমানো এবং আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান।

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অনেক প্রবাসীকে সোনা বহনের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং ব্যাগেজ রুলসের অপব্যবহার হচ্ছে। তিনি ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ব্যাগেজ রুলস পরিবর্তনের আশ্বাস দেন।

বৈঠকে বাজুসের সাধারণ সম্পাদক বাদল চন্দ্র রায়, সহসভাপতি রিপনুল হাসান ও মাসুদুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।