
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার দুই মাস পরেও ৪০ কোটি পাঠ্যবইয়ের মধ্যে ৮ কোটি বই এখনো ছাপা হয়নি। এর ফলে প্রায় ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী আংশিক বা কোনো বই পায়নি। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, ৮০ শতাংশ বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে, তবে সব বই এখনো প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকের অধিকাংশ বই বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের সিংহভাগ বই এখনো প্রস্তুত হয়নি। ৩১ কোটি বইয়ের মধ্যে প্রায় ২২ কোটি বই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ছাড়া হয়েছে।
বই ছাপানোর কাজে দেরি এবং ধীরগতির জন্য এনসিটিবির নতুন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অনভিজ্ঞতা, কাগজের কৃত্রিম সংকট, বইমেলা ও সহায়ক নোট-গাইড ছাপানোর কাজে বাঁধাই শ্রমিকদের ব্যস্ততাকে দায়ী করা হচ্ছে। এছাড়াও, এনসিটিবির অদূরদর্শী সিদ্ধান্তকেও দায়ী করা হয়েছে।
মুদ্রণসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রমজান মাস, ঈদ, জুমাতুল বিদা ও স্বাধীনতা দিবসসহ টানা ৩৯ দিনের ছুটি শুরু হওয়ায় বই ছাপানোর কাজ আরও বিলম্বিত হতে পারে। ছুটি শেষে ৮ এপ্রিল ক্লাস শুরু হলেও অনেক শিক্ষার্থী বইয়ের অভাবে পড়াশোনা শুরু করতে পারেনি। এতে শ্রেণিভিত্তিক মূল্যায়ন ও শিখন ঘাটতিতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পার্বতীপুর উপজেলার মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী এখনো সব বিষয়ের বই পায়নি। সেখানে শুধুমাত্র ৮ম শ্রেণি এবং মাদ্রাসায় ষষ্ঠ ও ৮ম শ্রেণির পুরো সেট বই বিতরণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়গুলো ৯ এপ্রিল খুললেও ২৪ জুন অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। বন্ধ বাদে শিক্ষার্থীরা মাত্র ৩৬ দিন ক্লাস করার সুযোগ পাবে, যা নিয়ে ফল বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন শিক্ষাক্রমের পরিবর্তে ২০১২ সালের সৃজনশীল কারিকুলামে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জনের জন্য গঠিত কমিটি বাতিল হওয়ায় এবং এনসিটিবি কর্মকর্তাদের অনভিজ্ঞতার কারণে সময়ক্ষেপণ হয়েছে।
মুদ্রণ সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান জানিয়েছেন, দেরিতে কাগজ আমদানির কারণে সমস্যা আরও বেড়েছে। তার মতে, বইয়ের সব কাজ শেষ করতে চলতি মাস লেগে যেতে পারে।
এনসিটিবির শিক্ষা ও সম্পাদন শাখার প্রধান মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর জানিয়েছেন, প্রাথমিকের বই ছাপানোর কাজ প্রায় শেষ এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের কাজও দ্রুত শেষ হবে।
