ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯.৩২ শতাংশ: ২২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ হয়েছে, যা বিগত ২২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবার বিবিএস-এর প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারিতে কমে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিবিএস জানিয়েছে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে আসার কারণে সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। শহর এবং গ্রাম উভয় ক্ষেত্রেই একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে।

বিবিএস-এর পরিসংখ্যান বলছে, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ, যেখানে জানুয়ারিতে ছিল ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ। গত ১০ মাসের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতেই প্রথমবার খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের নিচে নামল। এর আগে, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

শহরাঞ্চলে ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ, এক মাসের ব্যবধানে শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে, গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারিতে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ হয়েছে, যা জানুয়ারিতে ছিল ১০ দশমিক ৬১ শতাংশ।

তবে, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। এই মাসে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।

গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ হয়েছে, যা জানুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। শহরে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে এই হার দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ, যা জানুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছায়, যা আগস্টে কমে ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ হয়। সেপ্টেম্বরে তা আরও কমে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশে দাঁড়ায়। এরপর অক্টোবরে ২ দশমিক ০৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশে পৌঁছায়। নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি আরও দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়ে যায়। ডিসেম্বরে কিছুটা কমলেও, দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতি নিয়েই ২০২৪ সাল শেষ হয়। জানুয়ারিতে এই সূচক আরও কিছুটা কমলেও, তা গত বছরের জানুয়ারির চেয়ে বেশি ছিল।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মুদ্রা সরবরাহ কমাতে দফায় দফায় সুদের হার বাড়ানো হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআরও) তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যে শুল্ক-কর হ্রাস করে। এছাড়া, বাজারে নিত্যপণ্যের আমদানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।