
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা গ্রুপের প্রকৌশলী সাব্বির হত্যা মামলায় খালাস পাওয়ার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে থাকা সবগুলো মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরার পথ সুগম হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান ভার্চুয়ালি দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
দেশে ফেরা নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমান নিজেই দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন। তিনি দেশে ফিরতে আগ্রহী।
এদিকে, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন আছেন। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া অনেকটা সুস্থ আছেন এবং এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দেশে ফিরতে পারেন। তবে, ফ্লাইটের সময়ের ওপর নির্ভর করে দু-একদিন দেরি হতে পারে।
খালেদা জিয়া দেশে ফেরার কিছুদিন পর তারেক রহমানও ফিরবেন বলে জানিয়েছেন এম এ মালেক। তবে, বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তিনি আরও জানান, তারা একসঙ্গে দেশে ফিরবেন না।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন জানিয়েছেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে আর কোনো মামলা নেই। সব মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। শিগগিরই তিনি দেশে ফিরবেন এবং নিজেই তা দেশবাসীকে জানাবেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সক্রিয় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে বহুল প্রত্যাশিত। অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার উদ্যোগের মাধ্যমে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তারেক রহমান যেকোনো সময় দেশে ফিরতে পারেন। তার নিরাপত্তার বিষয়সহ সবকিছু বিবেচনা করে তিনি দেশে ফিরবেন।
সাব্বির হত্যা মামলায় তারেকসহ ৮ জনের খালাস
বসুন্ধরা গ্রুপের প্রকৌশলী সাব্বির হত্যা মামলায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় তারেক রহমানসহ আটজন খালাস পেয়েছেন। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু তাহের এই রায় দেন।
তারেক রহমানের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার জানিয়েছেন, এটি একটি ভিত্তিহীন মামলা ছিল। প্রসিকিউশন মামলা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে সব মামলা শেষ হয়েছে।
বিএনপির আইনজীবী বোরহান উদ্দিন জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি দুদক। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশে আর কোনো মামলা নেই। ফলে, তার দেশে ফিরে রাজনীতি করতে আর কোনো বাধা নেই।
২০০৬ সালে বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক সাব্বির হত্যা মামলার ঘটনা ধামাচাপা দিতে ২১ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালে তারেক রহমানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০০৮ সালে তারেকসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
