শেখ হাসিনার গাড়িবহরে বৃষ্টির মত গুলি করা হয়েছিল

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ’৮৮ সালে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে বৃষ্টির মত গুলি করা হয়েছিল বলে আদালতকে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। রোববার সকালে চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্পেশাল জজ মীর রুহুল আমিনের আদালতে ২৮ বছর আগের গণহত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি একথা জানান। এসময় তাকে আসামী পক্ষের আইনজীবিরা জেরা করেন।

আদালতে তিনি বলেন, ৮৮ সালের ২৪ জানুয়াারি এ গণহত্যা সংগঠিত হয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা লালদীঘির পাড়ের সমাবেশের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ট্রাকে করে রওনা দিয়েছিলেন। লাখ লাখ জনতার ¯্রােত। আমিও ছিলাম সেই ট্রাকে। কিছুদূর এগোনোর পর আমি সুজনের (খোরশেদুল আলম সুজন) মোটরসাইকেলে উঠে ট্রাকের আগে আগে যাচ্ছিলাম। কোতোয়ালি মোড় আসার পর পাখির মতো গুলি করা হচ্ছিল।

তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় সরকারি মুসলিম হাইস্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমরা লালদীঘিতে সমাবেশ আহ্বান করেছিলাম।

মোশাররফ বলেন, সেদিন আমি নেত্রীর সাহস দেখেছিলাম। মাইকে তিনি বার বার বলছিলেন, মোশাররফ ভাইয়ের ওপর হাত তুলবেন না। হাত তুলবেন না। এরপর আইনজীবীরা নেত্রীকে স্কট করে আদালত ভবনে নিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। ওই দিন ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। পুলিশ হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম নির্বিশেষে সবাইকে পুড়িয়ে ফেলেছিল।

আদালত সূত্র জানায়, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নগরীর লালদিঘি ময়দানে সমাবেশে যাবার পথে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে নিহত হন ২৪ জন। আহত হন কমপক্ষে দুই শতাধিক মানুষ। গণহত্যা মামলায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন ৩৭ নম্বর সাক্ষী। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তার জেরাও সম্পন্ন হয়েছে। আদালত ৩১ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।