৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে বিএনপির গাত্রদাহ‌‌ : আ’লীগের ব্রিফিংয়ে ড. হাছান

ঢাকা : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ইউনেস্কো বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম সেরা ভাষণ এবং প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়াতে বিএনপির গাত্রদাহ হচ্ছে। কারণ তারা এই ভাষণকে এবং ভাষণের গুরুত্বকে ক্রমাগতভাবে অস্বীকার করেছে এবং ইতিহাস বিকৃতি করেছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর তার এই ভাষণ বাজানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল এবং রাষ্ট্রীয় প্রচারযন্ত্র থেকে নির্বাসিত করেছিল। তিনি বলেন, তাই এই ভাষণের স্বীকৃতিতে তাদের এতো গাত্রদাহ।

সোমবার (২৭ নভেম্বর) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু এই ভাষণের মধ্যেই একটি নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে রূপান্তরিত করেছিলেন। এই ভাষণটি ছিল স্বাধিনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার ডাক। ইউনেস্কো এই ভাষণের স্বীকৃতিতে বলেছে, “This speech effectively declared the independence of Bangladesh”

তিনি বলেন, এই ভাষণের স্বীকৃতি দেশ জাতি ও রাষ্ট্রের অর্জন। তাই ২৫ নভেম্বর রাষ্ট্রের কর্মচারীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ ও আনন্দ র্র্যালী করেছিল। এটি কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ ছিল না এবং এখানে কোনো রাজনৈতিক নেতা বক্তব্য রাখেননি। শুধুমাত্র বক্তব্য রেখেছিল রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মচারিরা ও দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আর এই সমাবেশকে রিজভীসহ বিএনপির অন্যান্য শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা আহম্মকের মতো এটাকে রাজনৈতিক সমাবেশ বলে মিথ্যাচার করছেন।

বাংলাদেশের যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন, তা নিয়েও মীর্জা ফখরুল ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন।

মীর্জা ফখরুলের এই প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন – ইকোনোমিক ইনডেক্স, সোশ্যাল ইনডেক্স, হেলথ ইনডেক্স, হিউম্যান ইনডেক্স, এসব নিয়ে একটু পড়াশোনা করুন। ২০১৭ সালের সাথে, বিগত দিনের ইনডেক্সগুলো মিলিয়ে দেখুন।
২০০৮ সালে মানুষের মাথাপিছু আয় ছিলো ৬০০ ডলার। বর্তমানে তা ১৬৫০ ডলার।

তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সালে দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিলো ৪০ শতাংশ মানুষের বসবাস। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০ শতাংশে।
বিদ্যুৎসুবিধার আওতায় ছিলো ৪০ শতাংশ মানুষ। এখন তা ৯০ শতাংশের কাছাকাছি।

জাতিসংঘ থেকে শুরু করে, পৃথিবীর বেশ কিছু ক্রেডিবল সংস্থা এগুলোর প্রশংসা করেছেন। কিন্তু মীর্জা ফখরুলসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা, এগুলোকে অস্বীকার করে চলেছেন।

বিএনপি নেতা রিজভী আহমদের ইদানীংকালের কথাবার্তায় কোনোপ্রকার শালীনতা খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি অতি অসম্মান জনকভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাপারে কথা বলেন। তার এখনকার কথাবার্তা বদ্ধ উন্মাদের প্রলাপ বলেই মনে হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।