
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে মঙ্গলবার ভোর থেকে চালানো ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে আরও ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বুধবার (১৬ এপ্রিল) চিকিৎসা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, এই নিয়ে ১৮ মাস ধরে চলা সংঘাতে নিহতের মোট সংখ্যা অন্তত ৫১ হাজারে পৌঁছেছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। ভূখণ্ডজুড়ে আরও হামলা ও হতাহতের খবর আসছে।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রায় দুই মাস পর, গত ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল নতুন করে ব্যাপক হামলা শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, এই নতুন দফা হামলায় এখন পর্যন্ত ১,৬৩০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪,৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের সঙ্গে মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বিমান হামলা পুনরায় শুরু করে, যা জানুয়ারিতে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কার্যত ভেঙে দেয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৮ মাস আগে ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে মোট ৫১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৪৩ জন আহত হয়েছেন। তবে, গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলে জানিয়েছে। তাদের হিসাবে, নিহতের সংখ্যা ৬১,৭০০ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া হাজার হাজার নিখোঁজ ব্যক্তিকেও মৃত বলে গণ্য করা হচ্ছে।
এদিকে, হামাসের সামরিক শাখা জানিয়েছে যে তারা মার্কিন-ইসরায়েলি সৈনিক এডান আলেকজান্ডারকে পাহারা দেওয়া দলের সাথে যোগাযোগ হারিয়েছে। তাদের দাবি, বন্দীকে রাখা স্থানে ইসরায়েল “সরাসরি বোমাবর্ষণ” করার পর এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ঘটে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ভূখণ্ডটির ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এছাড়া, অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে চালানো আগ্রাসনের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও (আইসিজে) গণহত্যার মামলার মুখোমুখি হয়েছে।
