
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি স্থানীয় চক্রের বিরুদ্ধে। গত দুই মাস ধরে ওয়ার্ডের মাহমুদাবাদ এলাকার পশ্চিমে খননযন্ত্র ব্যবহার করে এই পাহাড় কাটা চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, মাহমুদাবাদের পশ্চিমে আলী (র.) দরগাহ থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে কয়েকটি পাহাড়ের বড় অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা এবং খননযন্ত্র দিয়ে পুকুরের মতো করে মাটি তুলে নেওয়ায় পাহাড়ের একটি বড় অংশ বিলীন হয়ে গেছে।
এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, দিনের বেলায় বন্ধ থাকলেও প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার পর থেকে ভোর পর্যন্ত চলে পাহাড় কাটার কাজ। এসময় ৮ থেকে ১০টি ড্রাম ট্রাকে করে কাটা মাটি বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। বাড়িঘর তৈরি বা কবরস্থান ভরাটের জন্য প্রতি ট্রাক মাটি ২৪০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, মাহমুদাবাদের ১৪-১৫ জন বাসিন্দার একটি সিন্ডিকেট এই পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত। অভিযুক্তদের মধ্যে এনাম সওদাগর, নেজাম উদ্দিন, শাহনেওয়াজ, ফোরকান, কাশেম সওদাগর, নুরুল ইসলাম মিস্ত্রি, নাছের ড্রাইভার, আব্বাস, জাহাঙ্গীর, ছোট জামাল, বড় জামাল, ছগির ড্রাইভার ও মুন্না ড্রাইভারের নাম উল্লেখ করেছেন অনেকে।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই এই অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে চক্রটি। এমনকি, কেউ পাহাড় কাটার বিষয়ে পুলিশ বা পরিবেশ অধিদপ্তরকে তথ্য দিলে, পুলিশই অভিযুক্তদের কাছে তথ্যদাতার নাম ফাঁস করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে তথ্যদাতারা চক্রটির রোষানলে পড়ছেন।
কামাল উদ্দিন নামে স্থানীয় এক যুবক বলেন, এই এলাকায় পাহাড় কাটা নতুন কিছু নয়। আগের সরকারের সময়েও যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নামধারী নেতাকর্মীরা পাহাড় কেটে প্লট ও মাটির ব্যবসা করে কোটিপতি হয়েছেন। তার মতে, সরকার পরিবর্তনের পর কেবল নিয়ন্ত্রকদের হাতবদল হয়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে যারা পাহাড় কাটছেন তারা বিএনপি সমর্থিত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনাম সওদাগর পাহাড় কাটার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “ওখানে আমাদের মসজিদের পাশে একটি কবরস্থান আছে। মূলত কবরস্থান ভরাটের জন্য মাটিগুলো কাটা হচ্ছে। আর মাটিগুলো পাহাড় থেকে কাটা হচ্ছে না, ধানি জমি থেকে কাটা হচ্ছে। আমরা ইউএনও মহোদয় থেকে অনুমতি নিয়ে কবরস্থান ভরাট করতেছি।”
তিনি আরও বলেন, “মাটি মনসুর নামের এক ব্যক্তি সারা বছর মাটির ব্যবসা করে। সন্ধ্যার পর প্রতিদিন মাটি মনসুর মাটি কাটতেছে।”
এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম মশিউজ্জামান বলেন, “ওটা আমার এলাকা নয়। সেখানকার দায়িত্বে থাকা এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি) এখন নেই। আমি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এক্ষুণি বিষয়টি পুলিশকে বলে দিচ্ছি। দরকার হলে আমি পরিবেশ অধিদপ্তরকে সাথে নিয়ে ব্যবস্থা নেব।”
উল্লেখ্য, দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকাটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত।
