
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইনস্টিটিউটকে শহর থেকে মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের দাবিতে ফের আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বেলা ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে চারুকলার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও সংহতি জানাতে দেখা গেছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে তাদের আন্দোলনের মুখে কর্তৃপক্ষ ১ এপ্রিলের মধ্যে চারুকলা ইনস্টিটিউটকে মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না দেখায় তারা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
চারুকলা ইনস্টিটিউটের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী মাসরুর আল ফাহিম বলেন, “গত বছরের আন্দোলনের পর প্রশাসন ১ এপ্রিলের মধ্যে চারুকলাকে মূল ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের কথা দিয়েছিল। কিন্তু তারা সেই কথা রাখেনি। প্রশাসন আশ্বাস দিলেও আমরা কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বর্তমান প্রশাসন আন্তরিক হলেও আমাদের ইনস্টিটিউটের কিছু শিক্ষক এবং সিন্ডিকেটের কতিপয় সদস্যের কারণে বিষয়টি ঝুলে আছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
এর আগে গত ডিসেম্বরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চারুকলা ইনস্টিটিউটকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেছিলেন, “চারুকলার শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মূল ক্যাম্পাসে ফিরতে চাইছে। আগের প্রশাসন আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা দাবি জানালে আমরা তাদের ধৈর্য ধরতে বলেছিলাম। এর মধ্যেই তারা আবার আন্দোলন শুরু করে। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা নীতিগতভাবে তাদের মূল ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনতে সম্মত হয়েছি এবং এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ না দেখা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
