আরিফুজ্জামান আরিফ, বেনাপোল : বুধবার দুপুরে যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমে মন্দির উদ্বোধন ও উৎসর্গ উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আলোচনা হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস মিয়ানমার তাদের দেশের মানুষ ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ভারত যেমন আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র, তেমনি মিয়ানমারের সঙ্গেও সুসম্পর্ক তৈরি করে আমরা বন্ধুত্ব গড়বো। আর তার জন্য দশটি পয়েন্টে দুই দেশ ঐক্যমত হয়েছে।
তিনি বলেন, এ দেশে জঙ্গীদের কোনো স্থান হবে না। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে জীবনবাজী রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সারাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া আমি ধর্মগুরু, ধর্মযাজক, আলেম ওলামাদের নিয়ে বসেছি। সবাই মিলে একটি প্লাটফর্ম থেকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। দেশবাসী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে রুখে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেন। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সারাদেশের নন্দিত নেতা। তিনি মানবতার নেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
রামকৃষ্ণ মঠ ও মন্দিরের অধ্যক্ষ স্বামী পরদেবানন্দজী মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এই বিশ্বাসকে বুকে ধারণ করে সরকার সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। তারপরও ষড়যন্ত্র আছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালানো হচ্ছে।
এর আগে যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে গত ২৭ নভেম্বর তিন দিনব্যাপি উৎসব শুরু হয়। বুধবার সমাপনী দিনের প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জের বালিয়াটি রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী পরিমুক্তানন্দজী মহারাজ। আলোচক ছিলেন ভারতে চেন্নাইয়ের রামকৃষ্ণ মিশন স্টুডেন্টস্ হোমের সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী শুকদেবানন্দজী মহারাজ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন নিলু, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি দিদার আহমেদ, যশোরের জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান প্রমুখ।
এর পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যশোর পুলিশ লাইনে নবনির্মিত পুলিশ ব্যারাকের উদ্বোধন করেন।
