
রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবন ফিরোজায় পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। যুক্তরাজ্যে চার মাসের চিকিৎসা শেষে আজ মঙ্গলবার (৬ মে) সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে তাকে ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিশেষ বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে দুপুর দেড়টার দিকের দিকে ফিরোজায় পৌঁছান তিনি।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনকে স্বাগত জানাতে ভোর থেকেই বিমানবন্দর সড়কে জড়ো হন নেতাকর্মীরা। তাকে অভ্যর্থনা জানাতে রাজধানী ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে গুলশানের ফিরোজা পর্যন্ত অগণিত নেতাকর্মীর ঢল দেখা গেছে। এ সময় তাদের হাতে ছিল খালেদা জিয়ার ছবি, প্লেকার্ড, দলীয় পতাকা এবং জাতীয় পতাকা। তবে নেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়ে সড়ক বন্ধ না করতে দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেয়া ছিল আগে থেকেই।
নেতাকর্মীরা বলেন, রাস্তার ওপরে না দাঁড়ানোর নির্দেশনা রয়েছে। তাই সুশৃঙ্খলভাবে আমরা রাস্তার ফুটপাতে দাঁড়িয়েছি, যাতে কারো কোনো ভোগান্তি না হয়।
বনানী এলাকায় ফুটপাতে অবস্থান নেয়া রামপুরা এলাকার বিএনপি কর্মী আরমান মিয়া বলেন, আজ আমাদের আনন্দের দিন। গণতন্ত্রের মা দেশে ফিরেছেন, নেতা-কর্মীদের আগমনে ভরে গেছে ঢাকা শহর। সফল ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি। তবে মানুষের ঢল নামায় কোথাও কোথাও সড়কেও অবস্থান নেন তারা।
বিএনপির চেয়ারপার্সনকে স্বাগত জানাতে গুলশানে তার বাসভবন ‘ফিরোজা’র সামনের সড়কে নেতাকর্মীদের ঢল দেখা গেছে সকাল থেকেই। মুহুর্মুহু শ্লোগানে মুখর ছিল গোটা এলাকা, যেন উৎসবের আমেজ।
সেখানে দলীয় ও জাতীয় পতাকা নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। যোগ দিয়েছেন অগণিত সাধারণ মানুষও। অনেকের হাতে রয়েছে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন। ফিরোজার সামনে প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে শ্লোগ্লান দিচ্ছিলেন তারা।
অন্যদিকে ফিরোজার সামনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যরা।
এদিন সকালে রাজধানীর হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে প্রবেশ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের চেয়ারপারসনের দেশে ফিরে আসা গণতন্ত্র উত্তরণকে সহজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মহাসচিব।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৭ জানুয়ারি লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। পর দিন ৮ জানুয়ারি হিথ্রো বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বড় ছেলে তারেক রহমান ও পরিবারের সদস্যরা। সেখান থেকে সরাসরি দ্য লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি হন তিনি। ১৭ দিন চিকিৎসার পর বড় ছেলের বাসায় ওঠেন। পরবর্তী সময়ে সেখানেই তার চিকিৎসা কার্যক্রম চলে।
তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন দুই পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান ও সৈয়দা শর্মিলা রহমান এবং চিকিৎসক ও মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যসহ ১৩ জন।
