আইনজীবী আলিফ হত্যাসহ আরও ৪ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো চিন্ময়কে


রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাসহ আরও চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত। সব মিলিয়ে তাকে এখন পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিনের আদালত পুলিশের করা আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। শুনানির সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভার্চুয়ালি যুক্ত করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ গত রোববার কোতোয়ালী থানায় দায়ের হওয়া চারটি মামলায় এবং সোমবার আরও একটি মামলায় চিন্ময়কে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সোমবার আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

মঙ্গলবার আদালত পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কর্তব্যে বাধা, আদালত প্রাঙ্গণে ত্রাস সৃষ্টি ও হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া বাকি চারটি মামলায় চিন্ময়কে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এই মামলাগুলোর মধ্যে একটির বাদী নিহত আইনজীবী আলিফের ভাই।

এর আগে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একটি মামলায় গত বছরের ২৫ নভেম্বর রাতে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময়কে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ওই দিন চিন্ময়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশের পর তার অনুসারীরা আদালত চত্বরে প্রায় তিন ঘণ্টা প্রিজন ভ্যান আটকে রেখে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ ও বিজিবি লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ লালদীঘি থেকে কোতোয়ালী মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ চলাকালে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা, বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আরও পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের কারণে চিন্ময়ের মুক্তি আটকে আছে। তিনি বর্তমানে কারাগারেই আছেন।