
পাকিস্তানে বুধবার ভোরে বিভিন্ন স্থানে ভারতের চালানো কথিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
অন্যদিকে, ভারত এই অভিযানকে ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে অভিহিত করে বলেছে, তারা পাকিস্তান ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের ৯টি স্থানে ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে বিবিসি।
আইএসপিআর প্রধান বলেন, “বুধবার প্রথম প্রহরে ভারতের বাহিনী পাকিস্তানের কোটলি, ভাওয়ালপুর, মুরিদকে, বাগ ও মুজাফ্ফরবাদে কাপুরুষোচিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এই হামলায় দুই পাকিস্তানি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে এর ‘বদলা নিতে শুরু করেছে’।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দেশটির সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজকে বলেছেন, “ভারত বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই কাপুরুষরা (ভারতীয়রা) তাদের নিজেদের আকাশসীমা থেকে হামলা চালিয়েছে। তারা তাদের বাড়ি কখনো ছাড়েনি। তাদের বের হতে দিন। আমরা উপযুক্ত জবাব দেব।”
কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর সাম্প্রতিক এক হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটল।
এদিকে, ভারতের সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বুধবার এক বিবৃতিতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযানের আওতায় পাকিস্তান ও পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের নয়টি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “‘অপারেশন সিন্দুর’ নামের অভিযানে পাকিস্তানের ৯টি জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে। পাকিস্তানের সেনা সদস্যদের ওপর কোনো হামলা চালানো হয়নি।”
