
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনী সীমান্তে ‘সাদা পতাকা’ উড়িয়ে পরাজয় স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছেন পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার।
বুধবার (৭ মে) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজ এই তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আতাউল্লাহ তারার বলেছেন, নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলওসি) সাদা পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ভারত কার্যকরভাবে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে।
ইসলামাবাদের পাক-চীন মৈত্রী কেন্দ্রে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী তারার পাঞ্জাব এবং আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের বেসামরিক এলাকায় ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দ্রুত ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার জন্য পাকিস্তান বিমান বাহিনীর (পিএএফ) ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, পাকিস্তানের বিমান বাহিনী পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান এবং একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আতাউল্লাহ তারার জোর দিয়ে বলেন, সমগ্র পাকিস্তানি জাতি ঐক্যবদ্ধ এবং তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করছে। পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী আক্রমণকারীদের কঠোর জবাব দিয়েছে।
ভারতীয় হামলার নিন্দা জানিয়ে নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করাকে “অত্যন্ত দুঃখজনক” বলে অভিহিত করেন তিনি। তারার আরও বলেন, পাকিস্তানের বাহিনী কেবল আগ্রাসন চালানোর কাজে জড়িত ভারতীয় যুদ্ধবিমানকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে। তার দাবি, ভারতীয় মিডিয়া নিজেই তাদের বিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করছে।
পেহেলগাম হামলার বিষয়ে পাকিস্তান স্বাধীন তদন্তের প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু ভারত তা প্রত্যাখ্যান করেছে উল্লেখ করে পাকিস্তানি তথ্যমন্ত্রী বলেন, এটি প্রমাণ করে যে, ভারত সত্য গোপন করতে চায় এবং বিদ্বেষপূর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, পাকিস্তান বহু বছর ধরে সন্ত্রাসবাদের শিকার, যেখানে ৯০ হাজার মানুষের জীবনহানি ঘটেছে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর এই ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে, যদিও ভারতের পক্ষ থেকে ‘সাদা পতাকা’ উত্তোলন বা তাদের বিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
