
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার উত্তেজনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে উভয় দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা ও পাল্টা হামলার দাবি করেছে। ভারতের কথিত ‘অপারেশন সিন্দুর’ এর জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বানিয়ান মারসুস’ শুরু করার কথা জানিয়েছে। একাধিক বিমানঘাঁটি ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে উভয় দেশে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) দাবি করেছে, ভারত তাদের তিনটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভারতের পাঠানকোট, উধমপুরসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আইএসপিআর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ভারত শনিবার ভোরে রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটি, শরকোট (সম্ভবত সারগোদা) বিমান ঘাঁটি এবং মুরিদ বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে আকাশ থেকে ভূমিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করে। তবে তিনি দাবি করেন, এসব হামলায় পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সকল সম্পত্তি নিরাপদে রয়েছে।
এর আগে শ্রীনগর থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানান, শনিবার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে সেখানে কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে এবং শহরজুড়ে পুরোপুরি ব্ল্যাকআউট চলছে। রাওয়ালপিন্ডি আর ইসলামাবাদেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে বলে বিবিসির সংবাদদাতারা জানিয়েছেন। রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বে টুইটার) এক বার্তায় বেসামরিক নাগরিকদের অকারণে বাড়ি থেকে না বেরোনোর এবং বাড়ির আলো নিভিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
পাকিস্তানের করাচির ফয়সাল হাইওয়েতে একাধিক বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গুলিস্তাঁ-এ-জওহার এলাকার এক বাসিন্দা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ভোরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং আকাশে আলোর ঝলকানিও দেখতে পেয়েছেন। বিস্ফোরণের পরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। করাচির মডেল টাউন এলাকার আরেক বাসিন্দা জানান, করাচি বিমানবন্দরের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ এসেছে। তবে, এসব বিস্ফোরণের কারণ সম্বন্ধে প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছু জানায়নি।
অন্যদিকে, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যবর্তী রাতে উত্তরের বারামুল্লা থেকে গুজরাতের ভুজ পর্যন্ত ২৬টি জায়গায় সন্দেহভাজন সশস্ত্র ড্রোন দেখা গেছে। এসব ড্রোন বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেষ্টা করেছিল বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। বারামুল্লা, শ্রীনগর, অবন্তীপোরা, নাগরোটা, জম্মু, ফিরোজপুর, পাঠানকোট, ফাজিলকা, লালগড় জাট্টা, জয়সলমীর, বারমের, ভুজ, কুয়ারবেত এবং লক্ষী নালার কাছে এই ড্রোনগুলো দেখা যায়।
পাঞ্জাবের ফিরোজপুরের একটি বেসামরিক এলাকায় এমনই একটি ড্রোন হামলায় কয়েকজন নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় তল্লাশী চালাচ্ছে। ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং এ জাতীয় সমস্ত হামলা ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোকাবেলা করা হচ্ছে। সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের বাড়ির ভিতরে থাকার এবং এলাকায় জারি করা সুরক্ষা নির্দেশাবলী মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই উত্তেজনার প্রেক্ষিতে উত্তর এবং পশ্চিম ভারতের ৩২টি বিমানবন্দর থেকে বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের আকাশসীমাও শনিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সেদেশের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
