চট্টগ্রাম: ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিএমসিসিআই) উদ্যোগে ‘৪র্থ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রপ্তানি মেলা ২০১৭’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরস্থ আবাহনী মাঠে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের রপ্তানি আয় ৩৮.৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরেই এটাকে ৪১.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং ২০২১ সালের মধ্যে তা ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এই লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। চট্টগ্রাম বন্দরকে সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা হবে। ৬০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আর্জনে বন্দরকে গুরুত্ব দিতেই হবে। চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে সরকারের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর আমাদের কৃষিব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। পাট, চামড়া এবং চা রপ্তানি করে আমাদের ৩৪৮ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। বর্তমানে আমাদের রপ্তানি বেড়েছে। বর্তমানে আমাদের খাদ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। এ বছর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হলেও চলতি মৌসুমে আমরা আমাদের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ফসল উৎপাদন করতে পারবো বলে আশা করছি। ৩৮০ মিলিয়ন টন খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমরা কাজ করছি।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, যারা বাংলাদেশকে আগে তলাবিহীন ঝুড়ি বলতো, তারা আজ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা দেখে অবাক হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই তা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে আমাদের রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, রেমিটেন্স ১৫ বিলিয়নের বেশি, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। দেশের ৮২ শতাংশ মানুষ আজ বিদ্যুত সেবা পাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সংবিধান অনুসারেই আগামী নির্বাচন হবে। বর্তমান সরকার অন্তবর্তী সরকারের দায়িত্ব পালন করবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর কখনো আলোর মুখ দেখবে না। বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তবে তারা ভুল করবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি আফসারুল আমিন এমপি এবং সামশুল ইসলাম চৌধুরী এমপি। মেলায় চেম্বার পরিচালক ও সদস্যগণসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। মেলাটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত চলবে। দর্শনার্থীদের প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা রাখা হয়েছে।
