
বহুল আলোচিত সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ রহিত করে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামের এই অধ্যাদেশটি সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, দমন ও বিচারের বিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে জারি করা হয়েছে।
বুধবার (২১ মে) রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে এই অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এই অধ্যাদেশটি এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত হয়।
গেজেটে বলা হয়েছে, সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ বাতিল করা হলেও ওই আইনের ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২২, ২৩, ৩০, ৩২ ও ৩৫ নম্বর ধারাসমূহ বলবৎ থাকবে।
নতুন অধ্যাদেশের উল্লেখযোগ্য দিক:
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এ মোট নয়টি অধ্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
* জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি: অধ্যাদেশের দ্বিতীয় অধ্যায়ে এই এজেন্সি গঠনের কথা বলা হয়েছে। সরকার গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা একজন মহাপরিচালক এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত সংখ্যক পরিচালকের সমন্বয়ে এজেন্সিটি গঠন করবে। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকবে, তবে প্রয়োজনে দেশের যেকোনো স্থানে শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।
* জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল: চতুর্থ অধ্যায়ে একটি জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠনের বিস্তারিত রয়েছে। এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণে গঠিতব্য এই কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বা প্রধানমন্ত্রী। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইজিপি, এনবিআর চেয়ারম্যান, বিটিআরসি চেয়ারম্যান, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের মহাপরিচালক, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক, প্রধান বিচারপতি মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, তথ্য কমিশন সচিব, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান এবং সরকার মনোনীত তথ্যপ্রযুক্তি বা মানবাধিকার বিষয়ক দুজন বেসরকারি বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে থাকবেন। এজেন্সির মহাপরিচালক এই কাউন্সিলের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন এবং কাউন্সিল এজেন্সিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও পরামর্শ দেবে।
* অন্যান্য অধ্যায়: অধ্যাদেশের প্রথম অধ্যায়ে শিরোনাম, সংজ্ঞা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়; তৃতীয় অধ্যায়ে প্রতিরোধমূলক সুরক্ষার ব্যবস্থা; পঞ্চম অধ্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো; ষষ্ঠ অধ্যায়ে সাইবার অপরাধ ও দণ্ড; সপ্তম অধ্যায়ে সাইবার অপরাধের তদন্ত ও বিচার; অষ্টম অধ্যায়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নবম অধ্যায়ে অন্যান্য বিবিধ বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণে সরকার গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।
অধ্যাদেশটি প্রবর্তনের পর সরকার ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করবে এবং বাংলা ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাবে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
