একাদশ সংসদ নির্বাচন : চট্টগ্রাম-১৫ আসনে কর্মীবান্ধব নেতা চান স্থানীয়রা

আবদুল আউয়াল জনি (লোহাগাড়া), চট্টগ্রাম : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে একাধিক ব্যক্তি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও সাতকানিয়া-লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের চাওয়া দলের দুঃসময়ে বিভিন্ন সংকটকালে যারা নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন সেরকম কাউকে। তাদের দাবি দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ ও কর্মীবান্ধব নেতাকেই যেন এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে কেমন প্রার্থী চান জানতে চাইলে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কুতুব উদ্দিন চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ অনেক বেশি সংগঠিত ও শক্তিশালী। কিন্তু স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা জানমাল বাজী রেখে আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিলেও আশাহত হয়েছে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। স্থানীয় সাংসদের সাথে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের দূরত্বের কারণে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার পরেও ঝিমিয়ে পড়ছে তাদের কার্যক্রম। তাই দলের দুঃসময়ে যারা নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন সেরকম ব্যক্তিকে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হলে আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেওয়ার জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে।

লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন হীরু একুশে পত্রিকাকে বলেন, কেন্দ্র থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষেই নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করার জন্য আমরা কাজ করব, তবে তৃণমূল থেকে উঠে আসা কর্মীবান্ধব নেতাকে যদি মনোনয়ন দেওয়া হয় তাহলে দল শক্তিশালী হবে। কর্মীবান্ধব নেতা না হলে নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের কোনো খোজখবর রাখতে চান না। বরং স্থানীয় নেতাকর্মীদের জুজুর ভয় দেখিয়ে কোণঠাসা করে রাখেন। দলের ব্যানারে কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন না। দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে নির্দ্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে দিয়ে নিজস্ব ব্যানারে সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রিদওয়ানুল হক সুজন বলেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী নৌকা প্রতীকে এমপি হলেও অজানা কারণে দলের সাথে তার দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা বঞ্চিত ও নিগৃহীত হয়েছে। তাই একজন মাঠকর্মী হিসেবে আমাদের দাবী আগামী সংসদ নির্বাচনে এমন এক ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হোক যার সাথে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীর সাথে নিবিড় সম্পর্ক আছে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির তাণ্ডবের পরে তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের ছায়া হয়ে ছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতা হয়েও তৃণমূলের সকল নেতাকর্মীর খোঁজখবর রাখেন, বিপদে ছুটে যান। এমন কাউকে দলের মনোনয়ন দিলে আমরা সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালী হব।

সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক নাছির উদ্দিন জয় বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ এই জনপদে যিনি কর্মীদের গড়ে তুলেছেন, কর্মীদের প্রিয় নেতা হিসেবে যিনি মাঠে আছেন এবং কাজ করছেন তিনি হলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। তাঁর নির্দেশনায় আমরা অতীতে সুসংগঠিত ছিলাম, এখনও আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। তাই আমিনুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা অধিক আগ্রহ নিয়ে নৌকা প্রতীকের বিজয় সুনিশ্চিত করতে জীবনবাজি রেখে কাজ করবে।

এদিকে বিভিন্ন সংস্থার জরিপ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের আলোচনায় আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে স্থান করে নেওয়া আমিনুল ইসলাম আমিন।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দাবি করছেন বনফুল গ্রুপের চেয়ারম্যান, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এমএ মোতালেব সিআইপি।

বর্তমান সংসদ সদস্য ড. অধ্যাপক আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী এমপিও হাল ছাড়েননি। তিনিও আশাবাদী দ্বিতীয়বারের মত আ’লীগের মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দীন হাছান চৌধুরী, খ্যাতনামা শিল্পগ্রুপ নোমান গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবদুল্লাহ মুহাম্মদ জোবায়ের এর নামও আছে স্থানীয়দের আলোচনায়।