চট্টগ্রামে পরিবহন ধর্মঘটে দুর্ভোগ

চট্টগ্রাম: পুলিশের হয়রানি বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে চট্টগ্রামে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট করেছে শ্রমিকরা। রোববার সকাল ৬টা থেকে মেট্রোপলিটন গণপরিবহন বাস মালিক সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ওই ধর্মঘট শুরু হয়।

ধর্মঘটের কারণে রোববার সকাল থেকে নগরের জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দেয়। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে সকালে স্কুল-কলেজ, অফিস, আদালতমুখী লোকজনকে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পরিবহনের অভাবে নির্ধারিত সময়ে অনেকে গন্তব্যে পৌঁছতে পারেননি। আবার অনেককে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে। এ ছাড়া গণপরিবহন না পেয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় অফিসমুখী লোকজনকে। অনেককে গাড়ি না পেয়ে আবার অফিসে যেতে পারেননি। পুরো নগরীতেই বিভিন্ন মোড়ে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের জটলা দেখা গেছে।

চকবাজার এলাকার যাত্রী ওসমান গণি বলেন, আগে থেকে ঘোষণা না দিয়ে হঠাৎ করে পরিবহন ধর্মঘট করা হয়েছে। অন্য দিরে তুলনায় একেবারে কম গাড়ি চলাচল করছে। এই সুযোগে ৩০ টাকার রিকশা ভাড়া ৬০ টাকা চাইছে রিকশাচালকরা।

গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, পুলিশের হয়রানি বন্ধসহ ১১ দফা দাবিতে সকালে এ পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়। পরিবহনের সাত সংগঠনের মধ্যে ছয়টি এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। বাস, মিনিবাস, হিউম্যান হলার, টেম্পুসহ সব ধরনের গণপরিবহন ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে। আমাদের পরিষদের অধীনে দেড় হাজারের বেশি গাড়ি রয়েছে।

এদিকে সংগ্রাম পরিষদের দাবিগুলো হল- থানায় মাসোয়ারার নামে গাড়ি আটক করা যাবে না। অবৈধ টমটম ও অযান্ত্রিক যানবাহন বন্ধ করা। ইঞ্জিনচালিত রিকশা করিমন-নছিমন বন্ধ করা। গণপরিবহন শ্রমিকদের ওপর পুলিশের নির্যাতন বন্ধ করা। গণপরিবহন চালকের লাইসেন্সের শর্ত শিথিল করা। যানজট নিরসনে ট্রাফিকব্যবস্থা উন্নত করা, শহর এলাকায় গণপরিবহনের টার্মিনাল ও নির্ধারিত পার্কিং স্থাপন করা। বিআরটিতে দালালের উৎপাত ও যানবাহন চালক-মালিকদের হয়রানি বন্ধ করা ইত্যাদি।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক (প্রশাসন-উত্তর) মহিউদ্দিন খান বলেন, কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু ও ইপিজেড এলাকায় পিকেটিং করার সময় চার পরিবহন শ্রমিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া ধর্মঘট আহ্বানকারীদের নিয়ে পুলিশ বৈঠকে বসেছে। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বৈঠক শেষ হয়নি।