
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাঁদপুর কাদেরিয়া হোসাইনিয়া রশিদিয়া দারুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন স্থানীয় পুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য সিরাজুল হক। তিনি শেখ কাশেম আলী পাড়ার মরহুম আবদুল লতিফের ছেলে এবং এই মাদ্রাসারই একজন প্রাক্তন ছাত্র।
সোমবার (২ জুন) বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) ছালেহ আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই মনোনয়ন ও অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা (গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা ২০০৯-এর ৩৯ প্রবিধান অনুসারে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার চাঁদপুর কাদেরিয়া হোসাইনিয়া রশিদিয়া দারুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসা পরিচালনার জন্য এই অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পত্র ইস্যুর তারিখ থেকে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য এই কমিটি দায়িত্ব পালন করবে এবং এই সময়ের মধ্যে বিধি মোতাবেক একটি নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার জন্য কমিটিকে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।
অনুমোদিত অ্যাডহক কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত হয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। এছাড়া সাধারণ শিক্ষক সদস্য হিসেবে মো. জানেউল আলম এবং অভিভাবক সদস্য হিসেবে অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন মাতবরকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নবনিযুক্ত সভাপতি সিরাজুল হক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “১৯৬৩ সালে হযরত মাওলানা ভাসানী হুজুর (রহ.) ধর্মীয় শিক্ষার আলো ছড়ানোর মহান লক্ষ্যে চাঁদপুর এলাকায় এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন হাঁজিগাঁওয়ের কীর্তিমান সন্তান এবং চাঁদপুরবাসীর অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তার প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। আমি নিজেও এই মাদ্রাসার একজন প্রাক্তন ছাত্র হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, একটি আধুনিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা প্রদানই হবে আমার প্রধান অঙ্গীকার। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় চাঁদপুর কাদেরিয়া হোসাইনিয়া রশিদিয়া দারুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসাকে একটি মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমি বদ্ধপরিকর।”
প্রসঙ্গত, ১৯৬৩ সালে হযরত মাওলানা ভাসানী হুজুর (রহ.) এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মরহুম বদরুজ্জামান মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার জন্য তার নিজস্ব জমি দান করেছিলেন। বাঁশের বেড়া ও ছনের ছাউনি দিয়ে প্রাথমিকভাবে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা সময়ের পরিক্রমায় ধীরে ধীরে একটি বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে।
