
কোরবানির ঈদের টানা ছুটিতে দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঢল নেমেছে ভ্রমণপিপাসুদের। সুন্দরবন ও সেন্টমার্টিনের মতো দুটি বড় গন্তব্য বন্ধ থাকলেও কক্সবাজার, টাঙ্গুয়ার হাওর, সাজেক ও সিলেটের বিভিন্ন স্পটে হোটেল-রিসোর্টগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, লম্বা ছুটির কারণে অভ্যন্তরীণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক চাপ রয়েছে। তবে এ সময়ে বিদেশ থেকে পর্যটক আসার হার (ইনবাউন্ড ট্যুরিজম) বেশ কম।
কক্সবাজারের কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, টানা ছুটিতে কক্সবাজারে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যটক অবস্থান করেছেন। এর বাইরেও অনেকে দিনে এসে দিনেই ফিরে গেছেন। তিনি বলেন, “৮ জুন থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলগুলোতে প্রায় শতভাগ কক্ষ বুকিং ছিল।”
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরও এখন পর্যটকে পরিপূর্ণ। হাওরের হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল হাসান বলেন, “ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। এখানকার সব হাউজবোট ও সাধারণ নৌকা সপ্তাহজুড়েই বুকিং হয়ে আছে।”
তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সাজেকে পর্যটকের চাপ আগের তুলনায় কিছুটা কম। কটেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, সাজেকে এখনো ৯১টি কটেজ ও রিসোর্ট চালু থাকলেও অনেকে বিষয়টি জানেন না।
এদিকে দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার প্রবণতাও (আউটবাউন্ড ট্যুরিজম) বেশ বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সভাপতি আবদুস সালাম আরেফ বলেন, “যেসব আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ভিসা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোতে বেশ ভালো সাড়া মিলেছে। লম্বা ছুটির কারণে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুরের মতো গন্তব্যের টিকেটও সহজে মিলছে না।”
তবে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে পর্যটক আসার হার হতাশাজনক বলে জানিয়েছেন ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন দেশের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরির কারণে বিদেশি পর্যটকরা কম আসছেন। এছাড়া অনেক দেশেই বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সংকুচিত হওয়ায় দেশের বাইরে যাওয়ার হারও আগের মতো নেই।”
