ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ: শঙ্কায় বাংলাদেশের সমুদ্র বাণিজ্য


ইরান-ইসরায়েল সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেলবাহী ট্যাঙ্কার কোম্পানি ‘ফ্রন্টলাইন’ ইতোমধ্যে প্রণালীটি দিয়ে নতুন করে জাহাজ পাঠানো বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় দেশের জ্বালানি ও পোশাক খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ফ্রন্টলাইনের প্রধান নির্বাহী লার্স বারস্টাড আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “ঝুঁকির কারণে আমরা নতুন করে উপসাগরে ঢোকার চুক্তি করছি না।”

এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় তৈরি পোশাকের চালান হরমুজ প্রণালী হয়েই যায়। আবার দেশের জ্বালানি তেলের বড় অংশও এই পথ দিয়ে আমদানি হয়। বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল এবং এক-তৃতীয়াংশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি খায়রুল আলম সুজন বলেন, “হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে তা পুরো সমুদ্র বাণিজ্যের জন্য অশনিসংকেত হবে। পণ্য পরিবহন খরচ এবং জাহাজের বীমা খরচ অনেক গুণ বেড়ে যাবে।”

এরই মধ্যে সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়বে এবং সে অনুযায়ী দাম সমন্বয় করা হবে।

শিপিং ব্যবসায়ীরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে তাদের আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে বিকল্প পথে জাহাজ চালাতে হবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই অনেক বাড়বে। এছাড়া বিকল্প পথের লোহিত সাগর অংশটিও হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ।