
এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্ত্রীর নামে বিদেশে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। একইসঙ্গে গ্রুপটিকে আইনবহির্ভূতভাবে ঋণ দিয়ে সহায়তার অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের ১০ জন কর্মকর্তার বিদেশযাত্রার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৪ জুন) ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।
দুদক ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সাইপ্রাসে মোহাম্মদ সাইফুল আলমের নামে থাকা একটি আবাসিক ভবন এবং ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে তার ও তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনের নামে থাকা ২৫টি কোম্পানির শেয়ার ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, এস আলম ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে ঋণ নিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন এবং দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এসব সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তরের চেষ্টা করায় তা ক্রোক করা প্রয়োজন।
এর আগেও কয়েক দফায় আদালত এস আলম ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাজার হাজার কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার, জমি ও ফ্ল্যাট ক্রোক এবং দুই শতাধিক ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে সাইফুল আলমসহ ১৩ জনের ওপর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, এস আলম গ্রুপকে অবৈধভাবে ঋণ দিয়ে সহায়তার অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করে দুদক। আবেদনে বলা হয়, এই কর্মকর্তারা দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন।
ইসলামী ব্যাংকের ওই ১০ কর্মকর্তা হলেন— মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা, মিফতাহ উদ্দিন, মোহাম্মদ ইহসানুল ইসলাম, মো. সিরাজুল কবির, মোহাম্মদ কায়সার আলী, তাহের আহমেদ চৌধুরী, মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ, হোসেন মোহাম্মদ ফয়সাল, আহাম্মদ জুবায়েরুল হক ও এস এম তানভীর হাসান।
