মাতারবাড়ি সংযোগ সড়ক: ৪ বছরে কাজ ৩৫%, ঠিকাদার ‘লাপাত্তা’


মহেশখালীর মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়নের সংযোগকারী একটি সড়কের সংস্কারকাজ চার বছরে মাত্র ৩৫ শতাংশ শেষ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষাধিক বাসিন্দা। প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের ঠিকাদারের গাফিলতি ও ধীরগতিতে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, আর বাস্তবায়নকারী সংস্থা এলজিইডি বলছে, তারা ঠিকাদারের কাছে ‘অসহায়’।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চালিয়াতলী চিতাখোলা থেকে রাজঘাট ব্রিজ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় গাইডওয়াল, মাটি ভরাট ও ৬টি সেতু নির্মাণের কথা ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকলেও তাদের কার্যক্রম অত্যন্ত ধীরগতির। এমনকি আসাদুল্লাহ নামে একজন ঠিকাদার ২২ কোটি টাকার কাজ শুরু করার পর থেকেই ‘লাপাত্তা’ হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার আরেকটি প্রতিষ্ঠান ৭ কোটি টাকা ব্যয়ের দুটি সেতুর নির্মাণকাজও অসমাপ্ত ফেলে রেখেছে।

সংস্কারের অভাবে সড়কটির অবস্থা এতটাই করুণ যে, যানবাহন প্রায়ই বিকল হচ্ছে এবং বৃষ্টির দিনে কর্দমাক্ত রাস্তায় গাড়ি আটকে যাওয়ায় যাতায়াত ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে অতিরিক্ত ধুলার কারণে লবণ চাষিরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী বনি আমিন জনি বলেন, “বারবার তাগাদা দিয়েও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কোনো সাড়া মেলেনি। কাজের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। আমরা নানা চেষ্টা করেছি কিন্তু কার্যকর কোনো ফল আসেনি। এমন দায়িত্বহীনতার কারণে আমরা প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যত অসহায়।”

তিনি জানান, কাজের গতি বাড়ানোর জন্য বহুবার চেষ্টা করেও ঠিকাদার আসাদুল্লাহর খোঁজ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, বিকল্প হিসেবে কোহেলিয়া নদীর ওপর নবনির্মিত একটি সেতু দিয়ে যাতায়াত চালু থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তারা আশঙ্কা করছেন, এই বেহাল সংযোগ সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়ন উপজেলা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা পুরো অঞ্চলের চলাচল ও অর্থনীতিকে অচল করে দেবে।

এলাকাবাসী দ্রুত এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে, প্রয়োজনে ঠিকাদার বাতিল করে নতুন করে কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন।