বাঁকখালীর গ্রাসে রামু: বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ


বর্ষায় আগ্রাসী রূপ নিয়েছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাঁকখালী নদী। তীব্র ভাঙনে এরই মধ্যে বিলীন হয়েছে কয়েকশ বসতভিটা, একটি কবরস্থান ও সড়ক। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শত বছরের পুরনো মসজিদসহ আরও বহু ঘরবাড়ি।

অব্যাহত ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে, তবে তা প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।

সরেজমিনে উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ক্যাজরবিল ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র। ক্যাজরবিল এলাকার একটি কবরস্থান ও কয়েকটি বাড়ি এরই মধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে সড়কের পাশে থাকা শত বছরের পুরনো একটি মসজিদ।

কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছড়ি মাস্টারপাড়া ও পশ্চিমপাড়া এলাকার প্রায় দুইশ পরিবার ভিটেমাটি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এলাকার সংযোগ সড়কটিও নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে।

ভুক্তভোগী দিদারুল আলম বলেন, “আমার বাড়ির উঠান নদীতে চলে গেছে। এখন বাড়ি থেকে কয়েক ফুট দূরে নদী। আমরা এলাকাবাসী মিলে কোনোমতে ভাঙন ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা বাস্তুচ্যুত হব।”

মাস্টার মো. বাদশা নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ বদলে আমাদের এলাকা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখন ভিটেবাড়িগুলোও নদীগর্ভে যাওয়ার পথে।”

স্থানীয় সমাজকর্মী তৈয়ব উল্লাহর অভিযোগ, “অসাধু ব্যবসায়ীরা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় নদীর গতিপথ বদলে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ভাঙন রোধে প্রশাসনকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।”

গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, “এবারের বর্ষায় বাঁকখালী খুব ভয়ানক রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে ভাঙন তীব্র। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।”

এ বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাশেদুল ইসলাম বলেন, “নদী ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছে। আশা করছি, দ্রুত একটি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জানতে চাইলে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের একটি দল ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছে। তাদের প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে বর্ষায় অন্তত অস্থায়ীভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।”