
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দলটির উপজেলা সদস্যসচিবসহ অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। রোববার (২৯ জুন) রাতে বারইয়ারহাট পৌর সদরে এই ঘটনার পর এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত মাওলা (৫০) ও কাশেম মাহফুজকে (৪২) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের অনুসারীদের সঙ্গে মীরসরাই উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আজিজুর রহমান চৌধুরীর অনুসারীদের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত আজিজুর রহমান চৌধুরী অভিযোগ করেন, “রোববার রাতে বারইয়ারহাট পৌর সদরের কাশবন রেস্টুরেন্টে আমরা নাস্তা খেতে যাই। সেখান থেকে বের হলে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল এবং আমার অনুসারী বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আহত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের অনুসারীরা এই ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। পুলিশকে ফোন দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।”
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের অনুসারী ও মীরসরাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, “এটি কোনো পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনা নয়। কাশবন হোটেলের সামনে আমাদের ছাত্রদল-যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে দেখে আজিজুর রহমান চৌধুরী ও তার অনুসারীরা কটূক্তি করে। এক পর্যায়ে সেটি বাগবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। তারাই প্রথমে হামলা করে।”
তিনি আরও জানান, এই হামলায় তাদের পক্ষেরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছাত্রদলের তানবীর হোসেন নিশাত, শাহীন আলম নিশাত এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের শাফায়েত হোসেন শুভ ও মো. বাদশা রয়েছেন। তার দাবি, নুরুল আমিন চেয়ারম্যানসহ সিনিয়র নেতাদের এ ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এটি তাদের দলীয় কোন্দল বলে মনে হচ্ছে। রাতে বিএনপির এক পক্ষ থানায় এসে মামলা দায়ের করেছে।”
তিনি জানান, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাঈনুল ইসলাম রাহাত বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে দেখছে।
