
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু বলে প্রচার করা হলেও, শিশুটির বাবা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, শিশুটিকে বলাৎকারের পর বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ৭ দিন পর, মঙ্গলবার (১ জুলাই) ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলাটি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে শিশুটির আরবি শিক্ষক ও স্থানীয় একটি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন নাছির উদ্দিনকে (৩৭)। তিনি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া, শিশুটির আপন নানা আবুল হোসেনকেও (৫৫) আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারণে শিশুটি তার নানা বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়ার পাশাপাশি হাফেজি পড়ছিল। গত ২৪ জুন বিকেলে সে প্রতিদিনের মতো মসজিদের সংলগ্ন কক্ষে আরবি শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে শিক্ষক নাছির উদ্দিন ফোন করে শিশুটির মাকে জানান যে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছে। পরে স্থানীয়রা মসজিদের পাশে একটি পরিত্যক্ত জায়গায় শিশুটির নিথর দেহ খুঁজে পান। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বাদীর অভিযোগ, “আমার ছেলের লাশের ছবিতে আমি দেখেছি, তার শরীরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের কোনো চিহ্ন ছিল না, বরং মাথা ও গায়ে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। ঘটনাস্থল থেকে ৩৩০০ কেভি ভোল্টের বৈদ্যুতিক তার অনেক দূরে অবস্থিত। মূলত বলাৎকারের পর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে এবং বালিশ চাপা দিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।”
ঘটনার পর অভিযুক্ত মুয়াজ্জিন নাছির উদ্দিন পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। কিন্তু মসজিদ কমিটির লোকজন তাকে নিজেদের জিম্মায় নেয় এবং পরবর্তীতে নানা আবুল হোসেনের সহায়তায় নাছির পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
শিশুটির বাবা আরও অভিযোগ করেন, “আমার ছেলের নানা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অভিযুক্ত নাছিরকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তিনি ময়নাতদন্ত ছাড়াই এবং আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করেন, যা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ লোপাটের একটি চেষ্টা।”
বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ জানান, “আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগের সারবত্তা পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন এবং মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লোহাগাড়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাছির উদ্দিন ও আবুল হোসেনের বক্তব্য জানতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। আদালতের নির্দেশের পর লোহাগাড়া থানা পুলিশ এখন এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করবে বলে জানা গেছে।
