প্রবাসের পথেই শেষ যাত্রা, আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় ফিরলেন না রাউজানের মানু


পরিবারের মুখে একটু হাসি ফোটাতে, ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে হাজারো তরুণের মতো মো. মানুও (৩৩) পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর সংযুক্ত আরব আমিরাতে। কিন্তু কে জানত, যে পথের শেষে ঘর, সেই পথেই অকালে নিভে যাবে তাঁর জীবনপ্রদীপ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আলআইন শহরের একটি সড়কেই চিরদিনের জন্য থেমে গেছে তাঁর পথচলা।

মঙ্গলবার (১ জুন) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার প্রাণ। যে গাড়ির স্টিয়ারিং ধরে সংসারের চাকা সচল রেখেছিলেন, সেই গাড়িসংক্রান্ত দুর্ঘটনাতেই সব স্বপ্নের ইতি ঘটল।

খবরটি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের উত্তর গশ্চি গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই সেখানে নেমে এসেছে শোকের মাতম। সালেহ আহম্মেদের ছেলে মানুর অকালমৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তাঁর রেখে যাওয়া একমাত্র কন্যাসন্তানটি হয়তো এখনো জানে না, তার বাবা আর কোনো দিন বিদেশ থেকে খেলনা হাতে বাড়ি ফিরবেন না। বাবার অপেক্ষায় তার ছোট্ট চোখের চাহনি এখন অনন্তকালের।

স্বজনরা জানান, মানুর নিথর দেহটি এখন বিদেশের এক হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে আছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে কফিনবন্দী হয়ে তিনি ফিরবেন নিজ জন্মভূমিতে, তবে জীবন্ত নয়, নিথর দেহে।

যে যুবক পরিবারের সচ্ছলতার জন্য প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিল, তাঁর এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর বিদায় যেন শুধু একটি প্রাণের সমাপ্তি নয়, একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের এক করুণ উপাখ্যান।