
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গণস্বাক্ষরসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী। উপজেলার দক্ষিণ ঢেমশা ইউনিয়নে অবস্থিত হাজী আহমদ কবির কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রভাইডার (সিএইচসিপি) বর্ণালী দাশের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়।
লিখিত অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, ক্লিনিকে নিয়মিত সেবা দেওয়া হয় না, সময়সূচি মানা হয় না, পর্যাপ্ত ঔষধও থাকে না, তবে কাগজে-কলমে সবকিছু ঠিক দেখানো হয়।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বর্ণালী দাশ নির্দিষ্ট সময়ে ক্লিনিকে আসেন না। প্রায়ই সকাল ১০টার পর ক্লিনিক খোলা হয় এবং মাত্র দুই-তিন ঘণ্টা খোলা রেখে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ কারণে অনেক রোগীকে সেবা না পেয়েই ফিরে যেতে হয়। তারা আরও আশঙ্কা করছেন, সরকারি বরাদ্দের ঔষধ গোপনে আত্মসাৎ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, রোগীদের কাছ থেকে যে পাঁচ টাকা করে ফি নেওয়া হয়, তার কোনো সঠিক হিসাব রাখা হয় না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বরত কর্মকর্তা খারাপ ব্যবহার করেন। বারবার মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান বাসিন্দারা।
তবে এসব অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত সিএইচসিপি বর্ণালী দাশ। তিনি বলেন, “আপনারা স্থানীয় বহু মানুষ আছে, তাদের সাথে কথা বললে জানতে পারবেন। এছাড়া আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে ভালো জানতে পারবেন।”
এদিকে অভিযোগের তদন্তের দায়িত্বে থাকা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সরোয়ার কামাল জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত বলা যাবে।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, বর্ণালী দাশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “এটা মিথ্যা অভিযোগ। জমি দাতা এসব অভিযোগ দিলেও তার মেয়ের বাড়িতে ক্লিনিকের সোলারের ব্যাটারি পাওয়া গেছে। ওনারা ক্লিনিকের নতুন কমিটির বিরুদ্ধেও অভিযোগ দিয়েছেন।”
