
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে একটি ৭ তলা ভবনসহ জমি বিক্রি হলেও, দলিলের সময় পুরো ভবনটি ‘গোপন’ করে শুধু খালি জায়গা দেখিয়ে রেজিস্ট্রি করার মাধ্যমে প্রায় ২৮ লাখ টাকা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই জালিয়াতির ঘটনায় এখন জমির ক্রেতা, বিক্রেতা, দলিল লেখক এবং সাব-রেজিস্ট্রার একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।
রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৩ মার্চ বাঁশখালী পৌরসভার উত্তর জলদি মৌজায় ছাবের আহমদের ছেলে মোস্তাক আহমদ এবং আহমদুর রহমানের স্ত্রী রুমি আকতার ৮ দশমিক ৫০ শতক জমি বিক্রি করেন শীলকূপ ইউনিয়নের মনকিচর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল গফুর ও আবদু ছবুরের কাছে।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ১৭৮৯/২৫ নম্বর দলিলে এটিকে ‘স্থাপনাবিহীন বাড়ি’ উল্লেখ করে শুধু জমির বাজার মূল্য ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দেখানো হয় এবং তার ওপর ভিত্তি করে ১০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা রাজস্ব পরিশোধ করা হয়।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ওই ৮ দশমিক ৫০ শতক জমির ওপর আগে থেকেই একটি সাততলা ভবন রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ২৪ হাজার ১৯২ বর্গফুটের ওই ভবনের বাজার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। জমি ও ভবন মিলিয়ে মোট ৪ কোটি টাকার বেশি মূল্যের এই সম্পত্তির ওপর প্রযোজ্য রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৮ লাখ ৩ হাজার টাকা। কিন্তু ভবনটির তথ্য গোপন করায় সরকার প্রায় ২৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এ বিষয়ে জমির ক্রেতা মো. আবদুল গফুর বলেন, “জমি কেনার সময় ৭ তলা ভবনটি ছিল, তবে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় দলিলে এর মূল্য ধরা হয়নি। সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার জন্য এ কাজ করা হয়নি।”
দলিল লেখক মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, “দাতা-গ্রহীতা যা বলেন, আমরা শুধু তাই লিখি। ঘটনাস্থলে কী আছে তা আমরা জানি না।”
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাঁশখালীর সাব-রেজিস্ট্রার রতন অধিকারী বলেন, “জমি রেজিস্ট্রির সময় দাতা-গ্রহীতা ও দলিল লেখক অঙ্গীকার ভঙ্গ করে কারসাজি করলে আমার কিছু করার নেই। আমাদের ঘটনাস্থলে যাওয়ার সুযোগ নেই।”
অন্যদিকে, বাঁশখালী পৌরসভার সচিব তৌহিদুল ইসলাম জানান, পৌর এলাকায় পাঁচতলার চেয়ে উঁচু ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেই। তিনি বলেন, “সাততলা ভবনটি নির্মাণ করে পৌর আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমরা ওই ভবনের ফাইল খুঁজে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
