নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু, পুলিশ-বিজিবিতে ১৭ হাজার নতুন নিয়োগ


আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি অথবা এপ্রিলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক প্রস্তুতি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (৯ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

বৈঠক শেষে রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারি অথবা এপ্রিলে হবে। এর অর্থ হলো, নির্বাচনের জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দরকার, সেটি প্রস্তুত করতে যা কিছু প্রয়োজন, তা এখন থেকেই শুরু করতে হবে।”

তিনি জানান, নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডে ১৭ হাজার নতুন সদস্য নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণ এ সময়ের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

নির্বাচনের সময় প্রায় আট লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকবেন জানিয়ে প্রেস সচিব বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা নির্দেশ দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য এই আট লাখ সদস্যকেই যেন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেনাবাহিনী নির্বাচনের দিন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে।”

বৈঠকে প্রায় ৪৭ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৬ হাজারের মতো কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি ক্যামেরা এবং প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

নির্বাচনকালীন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) লটারির মাধ্যমে বদলির একটি প্রস্তাব বিবেচনা করতে বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, বিগত তিনটি ‘বিতর্কিত’ জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে এবার নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও, ব্যাপক অনিয়মের ক্ষেত্রে পুরো আসনের নির্বাচন বাতিলের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি দিক পর্যালোচনার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ১৬ বছর মানুষ ভোট দেখেনি। ভোটারদের স্মৃতিতে আছে ভোটকেন্দ্রে মারামারি, ভোট চুরি। একটি প্রকৃত নির্বাচন কীভাবে আয়োজন করতে হয়, তার প্রশিক্ষণের জন্য দরকার হলে ‘রিহার্সাল নির্বাচন’ করতে হবে, যাতে একটি ভালো অভিজ্ঞতা নিয়ে মানুষ ভোট দিতে পারে।”