
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) একটি স্লুইসগেট দিয়ে খালে লবণাক্ত পানি ঢোকানোয় প্রায় ৬ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মৎস্য চাষের জন্য প্রভাবশালী একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে এ পানি ঢোকাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন উপকূলীয় সাতটি ইউনিয়নের কৃষকরা।
তাদের অভিযোগ, পাউবোর কাছ থেকে স্লুইসগেট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়ে একটি কমিটি এখন মাছ চাষের সুবিধার জন্য খালে সামুদ্রিক লবণ পানি ঢোকাচ্ছে, যা হাজার হাজার কৃষকের ধান ও সবজির খেত নষ্ট করছে।
উপজেলার বদরখালী-ঢেমুশিয়া খালের মুখে অবস্থিত পাউবোর স্লুইসগেটটি দিয়ে এই লবণ পানি ঢোকানো হচ্ছে। এর ফলে বদরখালী, পশ্চিম বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর, পূর্ব বড় ভেওলা ও সাহারবিল ইউনিয়নের প্রায় দশ হাজারের বেশি কৃষক আমন ধান ও শীতকালীন সবজি চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, জেলা প্রশাসনের জলমহাল ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে ইজারাদারদের পক্ষে প্রভাবশালীরা মৎস্য চাষের জন্য লবণ পানি ঢুকিয়ে ফসলি জমির ক্ষতি করছে।
তারা বলছেন, “যারা পাউবোর স্লুইসগেট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পেয়েছেন, তারা প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে দিব্যি লবণাক্ত পানি ঢোকাচ্ছেন। মূলত পাউবো থেকে টাকার বিনিময়ে রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির একটি কাগজ নিয়ে এসে তারা এই বাণিজ্য শুরু করেছেন।”
স্থানীয়রা জানান, ঢেমুশিয়া খালের ৫ দরজার এই স্লুইসগেটটি গত ১০ বছরেও সংস্কার করা হয়নি। ভাঙা গেট দিয়ে সারা বছরই কমবেশি জোয়ারের পানি ঢোকে। তবে এখন মৎস্য চাষের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে লবণ পানি ঢোকানোয় সংকট তীব্র হয়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে এই সাতটি ইউনিয়নের কৃষকরা ঢেমুশিয়া বদ্ধ জলমহাল ও এর শাখা খালের মিঠা পানি সেচ ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করে আসছেন। লবণাক্ত পানি থেকে ফসল রক্ষা করতেই পাউবো এই স্লুইসগেটগুলো নির্মাণ করেছিল।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানাজ ফেরদৌসী বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে পাউববের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, গেট ভাঙা থাকায় লবণ পানি ঢুকছে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের চকরিয়া উপজেলার দায়িত্বে থাকা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জামাল মোরশেদ বলেন, স্লুইসগেট রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি পাউবোর প্রধান কার্যালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। স্থানীয় কার্যালয় শুধু তাদের কার্যক্রম দেখভাল করে।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “ঢেমুশিয়া খালের স্লুইসগেট দিয়ে লবণ পানি ঢুকানোর বিষয়টি কেউ জানায়নি। এখন যেহেতু জানলাম, খোঁজ নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
