সাত বছর ধরে নেটওয়ার্ক নেই ফটিকছড়ি-মীরসরাইয়ের অর্ধশত গ্রামে


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও মিরসরাই উপজেলার পাহাড়ঘেরা উত্তর জনপদের অন্তত অর্ধশত গ্রামে একটি মোবাইল টাওয়ার থাকা সত্ত্বেও, গত সাত বছর ধরে নেটওয়ার্ক সংকটে ভুগছেন প্রায় ৭০ হাজার বাসিন্দা। এর ফলে তারা আধুনিক মোবাইল ব্যাংকিংসহ গুরুত্বপূর্ণ সব ধরনের যোগাযোগ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে ফটিকছড়ির পশ্চিম সোনাই গ্রামে মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটা একটি টাওয়ার স্থাপন করে। কিন্তু ২০১৮ সালে চাঁদাবাজি, নিরাপত্তা সংকট ও চুরি-ডাকাতির কারণে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এর পর থেকেই ফটিকছড়ির নয়টিলা, নলখো, সাইবেনিরখিল, ত্রিপুরাপাড়া এবং মিরসরাইয়ের পানুয়া, কালাপানিসহ দুই উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম সুজন জানান, “আগে রবি টাওয়ার চালু ছিল, তখন মোবাইলেই সব কাজ হতো। এখন একটা ফোন করতে হলেও ৫-৬ কিলোমিটার দূরের পথে হাঁটতে হয়। এলাকার বাইরে কেউ মারা গেলেও আমরা খবর পাই পরদিন।”

তরুণ কামরুল হাছান নয়ন বলেন, “একটা ফোন করার জন্যও অনেক দূরে যেতে হয়। প্রযুক্তির এই যুগে এটা কি কল্পনা করা যায়?”

নেটওয়ার্ক পুনঃস্থাপনের দাবিতে স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচিসহ নানা প্রতিবাদ করেছেন।

এ বিষয়ে রবি আজিয়াটার টেরিটরি কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “সমস্যাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিআরসি ও বন বিভাগের একটি যৌথ প্রতিনিধি দল এলাকা পরিদর্শন করেছে। এখন কেবল মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছি।”

চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, “যেহেতু জায়গাটি বন বিভাগের, তাই এখানে কোনো স্থাপনার জন্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর এলাকা পরিদর্শন করেছে। তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলে আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আর কোনো বাধা থাকবে না।”

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া আক্তার জানান, “আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর জন্য আমরা বন বিভাগ ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।”