
দেশের এক ইঞ্চি মাটিও হাতছাড়া হতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, দেশমাতৃকার অখণ্ডতা রক্ষায় তারা প্রয়োজনে জীবন দিতে প্রস্তুত থাকবেন।
বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জতে বিজিবির প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) ১০৩তম রিক্রুট ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে বিজিবি মহাপরিচালক মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী ইপিআরের ৮১৭ জন শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে’ প্রাণ হারানোদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা—এই চারটি মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত থেকে অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। শৃঙ্খলাই সৈনিকের অলংকার। সীমান্তে দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিপক্ষ বাহিনীর কাছে কোনো অবস্থাতেই নমনীয় হওয়া চলবে না।”
তিনি আরও বলেন, বিজিবি ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান এবং নারী-শিশু পাচার রোধসহ অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকেও সহায়তা দিয়ে আসছে।

নারী সৈনিকদের উদ্দেশে মহাপরিচালক বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নারীদের অবদান অবিস্মরণীয়। আজকের নারী সৈনিকরাও বিজিবির কর্মকাণ্ডে গতি আনবে এবং বাহিনীর সুনাম ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”
অনুষ্ঠানে সেরা চৌকস রিক্রুট হিসেবে সাইফ মিয়াসহ কৃতিত্বপূর্ণ নবীন সৈনিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিজিবি মহাপরিচালক।
এদিন মোট ৬৯৪ জন রিক্রুট মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে সৈনিক জীবনে প্রবেশ করেন, যাদের মধ্যে ৩৬ জন নারী রয়েছেন।
কুচকাওয়াজ শেষে বিজিবির প্রশিক্ষিত সদস্যদের অংশগ্রহণে ট্রিক ড্রিল এবং ব্যান্ড ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিজিবি, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
